
সিলেট নগরীতে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) নামে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। রোববার রাত ৮টার দিকে নগরীর কাস্টঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় কুমার সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। তিনি চার সন্তানের জনক। সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার রাতে কাস্টঘর এলাকায় হৃদয়ের স্ত্রী পিংকী রানীর ছবি মোবাইল ফোনে তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আমিন নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর আমিন সেখান থেকে চলে যান। পরে ফোন করে সহযোগীদের ডেকে আনেন তিনি। এরপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি হৃদয়ের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হৃদয়ের ছোট ভাই অজয় কুমার হরিজন অভিযোগ করেন, তাঁর ভাবির ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তরা তাঁর ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, হৃদয়ের দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে রয়েছে। ভাইয়ের মৃত্যুর পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, সহকর্মী ও সুইপার কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির সোমবার সন্ধ্যায় জানান, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আমিনসহ জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাসংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে। ভিডিওর সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের প্রাথমিক অভিযোগের কিছু বিষয়ে অমিল দেখা যাচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সিলেট কোতোয়ালি থানার পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত।