
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের নারী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদস্বরূপ বিতর্কিত আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (APL) ড্রাফট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটার অলি পোপ। চলতি বছরের শেষের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ড্রাফটে থাকা একমাত্র কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ইংলিশ ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট রব কি জানিয়েছেন, চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের বিদেশি লিগ খেলতে আইনিভাবে বাধা দেওয়া কঠিন হলেও, পোপ সম্পূর্ণ নিজস্ব নৈতিক অবস্থান থেকে এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যেকোনো ইংলিশ ক্রিকেটারকে বিদেশি লিগে খেলতে হলে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ECB) অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) প্রয়োজন হয়। পোপ বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হওয়ায় তার অংশগ্রহণের বিষয়টি ডিরেক্টর অব ক্রিকেট রব কি-এর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে রব কি জানান, "খেলোয়াড়দের এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় আইনি বাধা দেওয়া কঠিন। এটি মূলত একটি নৈতিক বিচার, এবং খেলোয়াড়দেরই সঠিক নৈতিক অবস্থান নিতে হবে।" পোপ স্বাধীনভাবেই এপিএল না খেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ইসিবির অঘোষিত অবস্থানের সাথেই মিলে যায়। রব কি ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করে বলেন, "আমার পক্ষে বলা সহজ, তবে আমি নিজে হলে খেলতে যেতাম না।"
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ইসিবি তাদের সাথে কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ খেলেনি। গত বছর ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন তালেবানদের নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি দমন-পীড়ন এবং মৌলিক অধিকার হরণকে 'লিঙ্গ বৈষম্য' (gender apartheid) বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে আইসিসির বৈশ্বিক আসরগুলোতে (যেমন- বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড। সম্প্রতি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টোনিয়া আন্তোনিয়াজ্জি। তিনি আইসিসিকে এই টুর্নামেন্টের অনুমোদন না দেওয়ারও আহ্বান জানান।
পোপ সরে দাঁড়ালেও আসন্ন ড্রাফটে ডেভিড মালান, মঈন আলী এবং জেমস ভিন্সের মতো বেশ কয়েকজন ইংলিশ ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। ডেভিড মালান এ প্রসঙ্গে তার অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে বলেন, "খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের নৈতিকতা ও আইনি বাস্তবতার মধ্যে আটকে থাকতে হয়। আমার একটি মেয়ে আছে এবং আমি চাই সে খেলাধুলায় যুক্ত হোক। কিন্তু দিনশেষে আমাকে বাড়িভাড়া দিতে হয় এবং জীবিকা অর্জন করতে হয়।" অন্যদিকে, সাবেক অলরাউন্ডার মঈন আলীর এজেন্ট ডিন আহমাদ এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য শুধু ক্রিকেটারদেরই কেন কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, যেখানে রাষ্ট্র ও বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো দিব্যি সম্পর্ক বজায় রাখে! তার মতে, এটি কোনো নৈতিকতা নয়, বরং 'সিলেক্টিভ আউটরেজ' বা বাছাইকৃত ক্ষোভ।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (APL) |
| সম্ভাব্য ভেন্যু | সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) |
| নাম প্রত্যাহারকারী ক্রিকেটার | অলি পোপ (ইংল্যান্ড) |
| বিতর্কের মূল কারণ | আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের নারী অধিকার হরণ ও চরম বৈষম্য |
| ইসিবির অবস্থান | আইনি বাধা নেই, তবে এটি খেলোয়াড়দের 'নৈতিকতার প্রশ্ন' |
| ড্রাফটে থাকা অন্য ইংলিশ তারকা | ডেভিড মালান, মঈন আলী, জেমস ভিন্স প্রমুখ |