
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নৌযানের সঠিক অবস্থান শনাক্তকরণ, সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে একটি উন্নত স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে কম উচ্চতার চারটি স্যাটেলাইট ও দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে এই স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
২০১২ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার সার্বভৌম অধিকার পায় বাংলাদেশ। বিশাল এই সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ ও নৌযান চলাচল তদারকি করতে বিএসসিএল ৪টি স্যাটেলাইট ও ২টি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে পুরো বঙ্গোপসাগর এলাকায় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের 'রিভিজিট টাইম' (পুনরায় পর্যবেক্ষণের মধ্যবর্তী সময়) বজায় রাখা সম্ভব হবে। তথ্যের গোপনীয়তা ও জাতীয় নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় স্থানীয় সার্ভার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় এলাকার ৫০ লাখের বেশি মানুষের আয়ের প্রধান উৎস সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ। তবে আধুনিক দিকনির্ণয় যন্ত্রের অভাবে প্রতিবছর সাগরে ট্রলার ডুবে বা দিক হারিয়ে বহু জেলের প্রাণহানি ঘটে। স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নৌযানের সঠিক অবস্থান জানা গেলে জেলেদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল ও পথভুল রোধ করা যাবে। বিএসসিএলের হিসাব মতে, এতে প্রতি নৌকায় ১৫০ লিটার এবং সামগ্রিকভাবে বছরে ৪ কোটি ৫০ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হবে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৫৯ কোটি টাকা।
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে দেশে প্রায় ৩০ হাজার নিবন্ধিত ও ৭০ হাজারের বেশি অনিবন্ধিত মাছ ধরার নৌকা রয়েছে। তবে যেসব নৌযানে এআইএস যন্ত্র থাকে না বা ইচ্ছাকৃতভাবে সংকেত বন্ধ রাখা হয়, সেগুলোকে শুধু এআইএসের মাধ্যমে শনাক্ত করা কঠিন। এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান মত দিয়েছেন যে, এআইএসের পাশাপাশি সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর) প্রযুক্তি যুক্ত করা উচিত, যাতে সংকেতবিহীন অবৈধ নৌযানগুলোও সহজেই ধরা পড়ে।
| বিষয় / খাত | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা | বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) |
| প্রাক্কলিত বাজেট ও অবকাঠামো | প্রায় ৬০০ কোটি টাকা | ৪টি স্যাটেলাইট ও ২টি গ্রাউন্ড স্টেশন |
| সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা | চলতি বছরের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে ২০২৮ সালের মধ্যে |
| প্রধান অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সুফল | বার্ষিক ৪৫৯ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় ও জেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ |