
রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিক পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল সফরকারী শ্রীলঙ্কা। আগের দুই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে অপরাজিত ৮৭ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৭.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা। এর আগে সাহেবজাদা ফারহানের লড়াকু ৭৬ রানের সুবাদে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করেছিল। তবে ম্যাচটি হারলেও প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান।
প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র ১ ও ৯ রান করে আউট হওয়া কুশল মেন্ডিস এদিন শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করেন। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৪৮ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৮৭ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার সাথে কামিন্দু মেন্ডিস ২৭ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থেকে মাত্র ৫৫ বলে ৯৮ রানের এক অবিচ্ছিন্ন ম্যাচজয়ী জুটি গড়েন। এর আগে পাওয়ার প্লেতে সিনেথ জয়াবর্ধনে (৩৮) দ্রুত রান তুলে দলের দারুণ শুরুর ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। মোহাম্মদ ইমরানের করা প্রথম বলেই লাহিরু উদারা আউট হলেও, পরে মেন্ডিস জুটি অনায়াসেই লঙ্কানদের জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ফখর জামান (১২) এবং মাজ সাদাকাত শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর মাঝের ওভারগুলোতে সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা (৩-২১) এবং স্পিনার বিজয়কান্ত বিয়াস্কান্ত (১-২৩) দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে পাকিস্তানের রানের চাকা চেপে ধরেন। ১৪তম ওভারের মধ্যে মাত্র ১০২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান। তবে অধিনায়ক সাহেবজাদা ফারহান শেষ পর্যন্ত লড়ে ৪৭ বলে ৭৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে লড়াই করার মতো একটি স্কোরে (১৬৮/৮) নিয়ে যান। নুয়ান তুশারা ইনিংসের শেষ দুই বলে ফারহান ও রাজাউল্লাহকে আউট করে জোড়া উইকেট পান।
টানা দুই জয়ে সিরিজ আগেই নিশ্চিত হওয়ায় পাকিস্তান এই ম্যাচে তাদের মূল একাদশের নাসিম শাহ, আবরার আহমেদ, শাদাব খান ও সাইম আইয়ুবের মতো নিয়মিত বোলার ও অলরাউন্ডারদের বিশ্রাম দিয়েছিল। ফলে ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা রাজাউল্লাহ (২.১ ওভারে ৩৭ রান) এবং সালমান মির্জার (০-৪০) মতো তরুণ বোলাররা লঙ্কান ব্যাটারদের সামনে বেশ খরচে সাব্যস্ত হন। এছাড়া স্পিনার আরাফাত মিনহাস তার প্রথম ওভারেই ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পান, যা পাকিস্তানের ফিল্ডিংয়ে প্রভাব ফেলে। এই সিরিজ শেষে আগামী রবিবার থেকে রাওয়ালপিন্ডিতেই ইংল্যান্ডকে সাথে নিয়ে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হবে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ভেন্যু | রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান |
| পাকিস্তানের সংগ্রহ | ১৬৮/৮ (সাহেবজাদা ফারহান ৭৬, আরাফাত মিনহাস ৩৪*) |
| শ্রীলঙ্কার বোলিং | দাসুন শানাকা ৩/২১, নুয়ান তুশারা ২/৩৮ |
| শ্রীলঙ্কার রান তাড়া | ১৭২/২ (১৭.১ ওভার) (কুশল মেন্ডিস ৮৭*, কামিন্দু মেন্ডিস ৪০*) |
| ম্যাচের ফলাফল | শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী |
| সিরিজের চূড়ান্ত ফলাফল ও আসন্ন সূচি | পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী; রবিবার থেকে শুরু হবে ইংল্যান্ডকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওডিআই সিরিজ |