
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর ইস্তাম্বুলের বৈরী পরিবেশে তুরস্কের জায়ান্ট গ্যালাতাসারের মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। লামিন ইয়ামাল ও পেদ্রিদের দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে চলতি মৌসুমে টানা ১০ ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়ল কাতালানরা। একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে জেতা এই রোমাঞ্চকর ম্যাচের তিনটি মূল দিক নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।
হান্সি ফ্লিক এমন একজন সাহসী কোচ, যিনি নতুন কিছু পরীক্ষা করতে মোটেও ভয় পান না। এই ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের মতো প্রথাগত সেন্টার-ফরোয়ার্ডের বদলে দানি ওলমোকে 'ফলস নাইন' হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা। প্রথমার্ধে ওলমো খুব বেশি বলের সংস্পর্শে না এলেও, বিরতির ঠিক আগে ডেভিনসন সানচেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে জোয়াও ক্যানসেলোর সমতাসূচক গোলে বড় অবদান রাখেন। তার মুভমেন্ট প্রমাণ করে যে, আগামীতেও এই কৌশলের ব্যবহার দেখা যেতে পারে।
ইস্তাম্বুলের মাঠে বার্সেলোনা যখন প্রথম গোল হজম করে, সেটি ছিল সম্পূর্ণ খেলার গতির বিপরীতে। এরপর ভিক্টর ওসিমহেনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় সফরকারীরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ক্যানসেলো সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধ পুরোটাই ছিল বার্সেলোনার নিয়ন্ত্রণে। ফারমিন লোপেজ এবং অ্যান্থনি গর্ডনের দ্রুত দুটি গোলে গ্যালাতাসারে কার্যত ছিটকে যায়। চমৎকার পাসিং এবং বল দখলের আধিপত্য দেখিয়ে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে।
চলতি মৌসুমে লা লিগার ৮টি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২টি ম্যাচ—মোট ১০ ম্যাচেই জিতেছে বার্সেলোনা। আর এই ম্যাচগুলোতে তারা অবিশ্বাস্যভাবে ৪৩টি গোল করেছে, যা ইউরোপের অন্য যেকোনো শীর্ষ ক্লাবের চেয়ে অনেক বেশি। এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো আক্রমণভাগ থেকেই প্রতিপক্ষকে প্রেসিং করা, যা ডিফেন্ডারদের কাজ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, ৪-১ গোলে এগিয়ে থাকার পরও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কাতালানরা পঞ্চম গোলের জন্য মরিয়া ছিল। লিড ধরে রেখে রক্ষণাত্মক খেলার কোনো চিন্তাই তাদের মধ্যে দেখা যায়নি।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (২০২৬/২৭ লিগ ফেজ) |
| ভেন্যু | আলী সামি ইয়েন স্পোর্টস কমপ্লেক্স, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক |
| ম্যাচের ফলাফল | গ্যালাতাসারে ১ - ৪ বার্সেলোনা |
| বার্সেলোনার উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় | জোয়াও ক্যানসেলো, ফারমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন, দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল ও পেদ্রি |
| বার্সেলোনার ম্যানেজার | হান্সি ফ্লিক |
| বার্সেলোনার বর্তমান ফর্ম | টানা ১০ ম্যাচে ১০ জয় (৪৩ গোল) |