
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০০৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউরোপের শীর্ষ এই ক্লাব প্রতিযোগিতায় ১৪০টি গোল করেছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা, যা লিওনেল মেসিরও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই ৭১টি গোল করে এই রেকর্ডের অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়েছেন। পিছিয়ে নেই ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডও, তার গোল সংখ্যা ৫৯টি। ২৭ ও ২৬ বছর বয়সী এই দুই তারকার সামনে এখনও দীর্ঘ ক্যারিয়ার বাকি থাকায় রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল এমবাপ্পে, হালান্ড এবং বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেন এই প্রতিযোগিতায় ৩৫-এর বেশি গোল করেছেন। তবে হ্যারি কেনের বয়স ৩৩ হয়ে যাওয়ায় তার পক্ষে রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এমবাপ্পে (২৭ বছর) এবং হালান্ড (২৬ বছর) এখনও তরুণ। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী দলে খেলার কারণে এবং নিয়মিত গোল পাওয়ায় এই দুই ফরোয়ার্ডের সামনে রোনালদোর রাজত্ব হরণ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে।
৭১ বছরের পুরনো এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের হাতবদল হয়েছে বেশ কয়েকবার। ১৯৫৫ সালে শুরু হওয়া ইউরোপিয়ান কাপের (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) প্রথম আসরে ৮ গোল করে শীর্ষস্থান দখল করেন পার্তিজান বেলগ্রেডের মিলোস মিলুটিনোভিচ। এরপর রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি আলফ্রেডো ডি স্টেফানো ৪৯ গোল করে দীর্ঘসময় (১৯৬৪ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত) এই রেকর্ড ধরে রাখেন। ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাউল গঞ্জালেস তাকে ছাড়িয়ে যান। ২০১৪ সালের নভেম্বরে রাউলের রেকর্ড ভাঙেন মেসি। এরপর মেসি ও রোনালদোর মধ্যে চলে তীব্র লড়াই, তবে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোনালদো পাকাপাকিভাবে শীর্ষস্থান দখল করে নেন।
সময়ের সাথে সাথে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আকার ও ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুম থেকে দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৩৬ করা হয়েছে এবং নকআউটের আগে প্লে-অফ রাউন্ড যুক্ত হয়েছে। এর ফলে এখন প্রতিটি দল অন্তত ৮টি ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা পাচ্ছে এবং ফাইনালে ওঠা দলগুলোকে আগের ১৩টি ম্যাচের (২০০৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত) বদলে সর্বোচ্চ ১৭টি ম্যাচ খেলতে হতে পারে (যেমনটা পিএসজি গত দুই মৌসুমে খেলেছে)। ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এমবাপ্পে ও হালান্ডের মতো ফরোয়ার্ডরা রোনালদোর চেয়ে অনেক বেশি গোল করার গাণিতিক সুযোগ পাচ্ছেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| সর্বোচ্চ গোলদাতা | ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (১৪০ গোল) |
| বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী ১ | কিলিয়ান এমবাপ্পে (৭১ গোল, বয়স ২৭) |
| বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী ২ | আর্লিং হালান্ড (৫৯ গোল, বয়স ২৬) |
| ঐতিহাসিক রেকর্ডধারী | আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (৪৯ গোল, ১৯৬৪-২০০৫ পর্যন্ত রেকর্ড ধরে রাখেন) |
| রাউলের রেকর্ড ভাঙেন কে? | লিওনেল মেসি (নভেম্বর ২০১৪ সালে) |
| নতুন ফরম্যাটের সুবিধা | ফাইনালে ওঠা দলগুলো এখন মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৭টি ম্যাচ খেলতে পারবে (আগে ছিল ১৩টি) |