
দেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে বর্তমান সরকার আন্তরিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম জোরদার করা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সংস্কারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাস তুলে ধরেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সহজ ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন।
কায়সার কামাল আরও বলেন, ক্ষমতার সুষ্ঠু হস্তান্তর এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএনডিপির দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সংস্থাটি সহায়তা দিয়ে আসছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারেও ইউএনডিপি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ (ওরিয়েন্টেশন কোর্স) আয়োজনেও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ইউএনডিপি।
এ ছাড়া সংসদীয় কমিটিগুলোকে সহায়তা দেওয়া এবং লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়নেও সংস্থাটির আগ্রহের কথা জানান তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিগত সরকারের শাসনের অবসান ঘটে। জেনারেশন জেড বা জেনজির দেখানো পথ অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ওই পরিবর্তন আসে। জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে রাষ্ট্রকাঠামোয় আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারি নিয়োগে দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের মূল্যায়ন জরুরি বলে মত দেন ইউএনডিপির ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি।
এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের প্রায় ৩২৫টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে ইউএনডিপি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।