
ইরানের সামরিক অস্ত্রভান্ডারে আরও অত্যাধুনিক অস্ত্র যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সামরিক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এর মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর এই মুহূর্তে সামরিক হামলা চালানো সুবিধাজনক হবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে ব্রিটিশ অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ (MI5)।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ হবে বলে মন্তব্য করে তিনি সতর্ক করেন যে, মার্কিন রাজনৈতিক সাফল্যের স্বার্থে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আগ্রাসন চালালে তেহরান আরও শক্তিশালী ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের অস্ত্র যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি আইআরজিসি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে পরবর্তীতে সুর নরম করে তিনি জানান যে, বর্তমান সময়ে এই ধরনের অভিযান চালানো সুবিধাজনক নয়। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেকেই নেতানিয়াহু এই অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এবার ইউরোপীয় ভূখণ্ডেও ইরানের গোপন তৎপরতা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫। সংস্থাটির মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম জানিয়েছেন, চলতি বছরে সামরিক স্থাপনা ও কঠিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছে ব্রিটিশ প্রশাসন।
| দেশ / পক্ষ | সাম্প্রতিক অবস্থান, বিবৃতি ও সামরিক প্রস্তুতি |
|---|---|
| ইরান (আইআরজিসি) | সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নত অস্ত্র সংযুক্তি; যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুংকার। |
| ইসরাইল (নেতানিয়াহু) | ট্রাম্পকে হামলার চাপ দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে বড় হামলা সুবিধাজনক নয় বলে মত প্রকাশ। |
| যুক্তরাজ্য (এমআই৫) | ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা ও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ইরানি হামলার চেষ্টার গুরুতর গোয়েন্দা সতর্কবার্তা। |