
রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে প্রহার এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান (২৩) নামের এক তরুণকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডি মীনা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটকের পর ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ জানান, সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হসপিটাল-এর বিপরীত পাশের ফুটপাতে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর কথা খালিদ হাসান আদালতে স্বীকার করেছেন। যদিও তাঁর ভাগনিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে পূর্বেই শহীদ আবদুল্লাহকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তবে সাধারণ নাগরিক হয়ে নিজ হাতে আইন প্রয়োগ করার সুযোগ না থাকায় খালিদকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যখন এক যুবক প্রবীণ ব্যক্তিকে সপাটে চড়-থাপ্পড়, লাথি ও কান ধরে ওঠবস করাচ্ছিলেন, তখন মাত্র কয়েক হাত দূরে ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্যরা নির্বিকার দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, কর্তব্যে অবহেলার দায়ে এএসআই আবদুল হাইকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। অপর দুই পপআপ সদস্যের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাগনিকে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে বাঁচাতে এসে মামার কারাদণ্ড হওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে কান্না ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই তরুণী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হয়রানির পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে সাহায্য চেয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে মামাকে ডেকেছিলেন। অন্যদিকে, পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পেরেছে যে, মারধরের শিকার শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পূর্বে মেডিকেল শিক্ষার্থী হলেও পরবর্তীতে মারাত্মক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
| বিষয় / পক্ষ | বিবরণ ও আইনগত অবস্থা |
|---|---|
| দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক (মামা) | খালিদ হাসান (১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড, ডিএমপি স্পেশাল কোর্ট) |
| প্রহৃত ব্যক্তি | শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ (১ মাসের কারাদণ্ড ও পরবর্তীতে হাসপাতালে সেবা) |
| দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তা | এএসআই আবদুল হাই (ধানমন্ডি থানা থেকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড) |
| ঘটনার স্থান ও তারিখ | বাংলাদেশ আই হসপিটাল সংলগ্ন সাতমসজিদ সড়ক, ধানমন্ডি (১৩-১৪ অক্টোবর ২০২৬) |