
ডারবানের কিংসমিডে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে ব্যাকফুটে চলে গেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান ধারক দক্ষিণ আফ্রিকা। এই পরাজয়ের পর দলের মিডল অর্ডার ব্যাটারদের তীব্র সমালোচনা করেছেন হেড কোচ শুকরি কনরাড। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও, দলে টিকে থাকতে হলে ব্যাটারদের পারফরম্যান্সের মান আরও অনেক বাড়াতে হবে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলের প্রয়োজনে স্কোয়াডের বাইরে থেকেও নতুন ব্যাটার নেওয়ার আভাস দিয়েছেন কনরাড।
প্রধান পেসার কাগিসো রাবাদার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বোলিং আক্রমণে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে কনরাড আসল সমস্যা হিসেবে দেখছেন ব্যাটিং বিভাগের ধারাবাহিকতার অভাবকে। তিনি জানান, দেশের মাঠে বেশ কিছুদিন ধরেই ভালো বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে কেবল টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করাম এবং নিচের সারির রানগুলোর ওপর দলকে অতিরিক্ত নির্ভর করতে হচ্ছে। ৩, ৫ ও ৬ নম্বর পজিশনে নিয়মিত পরিবর্তন আনার ফলে টপ ও মিডল অর্ডারে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে ডারবান টেস্টে।
ব্যাটিং সংকট কাটাতে বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছেন কোচ কনরাড। স্কোয়াডে থাকা আনক্যাপড ব্যাটার মার্কাস অ্যাকারম্যান একাদশে সুযোগ পাওয়ার প্রথম দাবিদার। পাশাপাশি ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা ওপেনার টনি ডি জর্জি কিংবা ২০ বছর বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াসের কথা ভাবা হতে পারে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫৬.২৮ গড়ে ব্যাট করা প্রিটোরিয়াস উইকেটের পেছনে ক্যাচ গ্লাভসও হাতে নিতে পারেন। নিয়মিত উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেন টানা ১৩ ইনিংসে ফিফটি না পাওয়ায়, সিপ্রিয়ান ক্যান বা সীনেথেম্বা কেশিলেও কোচের বিবেচনায় আসতে পারেন।
বাজে শট খেলে আউট হওয়ার সমালোচনা করে কনরাড বলেন, বেশির ভাগ আউটই হয়েছে মানসিক একাগ্রতার অভাবে। তিনি জানান, দ্বিতীয় ইনিংসে প্রায় ৬ ঘণ্টা উইকেটে টিকে থেকে ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে এইডেন মার্করাম দেখিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে কীভাবে একাগ্ৰতার পরিচয় দিতে হয়। বাকি ব্যাটারদের মার্করামের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ। দ্বিতীয় টেস্টে দলজুড়ে বড় ধরনের রদবদল না এনে, বর্তমান ক্রিকেটারদের মানসিকতায় পরিবর্তন এনেই ঘুরে দাঁড়াতে পছন্দ করবেন শুকরি কনরাড।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচের ফলাফল | অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২১৪ রানে পরাজিত (ডারবান টেস্ট) |
| প্রধান কোচ | শুকরি কনরাড |
| প্রধান সমস্যা চিহ্নিতকরণ | মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ও আউটের পেছনে মানসিক একাগ্রতার অভাব |
| ইনজুরিতে থাকা তারকা পেসার | কাগিসো রাবাদা (হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি) |
| সম্ভাব্য নতুন মুখ/বিকল্প | মার্কাস অ্যাকারম্যান, লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস, সীনেথেম্বা কেশিলে, জর্ডান হারম্যান |
| ইতিবাচক দিক | দ্বিতীয় ইনিংসে এইডেন মার্করামের ৬ ঘণ্টার সংগ্রামময় ৭৫ রান |