
চীনের গবেষকরা জুরাসিক যুগের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি পাখির জীবাশ্ম শনাক্ত করেছেন। চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর ইনস্টিটিউট অব ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলজি অ্যান্ড প্যালিওঅ্যানথ্রোপলজি (IVPP)-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি পাখিদের বিবর্তন সম্পর্কিত প্রচলিত পুরোনো ধারণাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এতোদিন ধারণা করা হতো, পাখিদের উৎপত্তি ও প্রাথমিক বিবর্তন মূলত আকাশে ওড়ার অভিযোজনের ওপর ভিত্তি করেই ঘটেছিল। কিন্তু নতুন এই জীবাশ্ম প্রমাণ করেছে যে, পাখি বিবর্তনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই ভূমিতে বসবাস এবং উড়তে অক্ষম হওয়ার মতো পরিবেশগত অভিযোজনও শুরু হয়েছিল।
নতুন আবিষ্কৃত এই পাখির নাম দেওয়া হয়েছে 'ইউয়েঝুওর্নিস ইয়াংইউয়েনেনসিস'। চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ইয়াংইউয়েন শহর (যেখানে জীবাশ্মটি পাওয়া গেছে) এবং প্রাচীন চীনা রূপকথার এক পৌরাণিক পাখির নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, এই প্রজাতিটি গাছে বসবাসকারী বা জলজ পাখিদের দলে পড়ে না। বরং কলারবোন বা কণ্ঠাস্থির মধ্যবর্তী প্রশস্ত কোণ এবং ট্রাপিজয়েড আকৃতির কোরাকয়েড হাড় প্রমাণ করে যে, এটি আধুনিক যুগের উটপাখির মতো ভূমিতে বসবাসকারী উড়তে অক্ষম এক মাংসাশী পাখি ছিল, যা দ্রুত দৌড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত হয়েছিল।
কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, প্রাথমিক পাখিদের শারীরিক বিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল আকাশে ওড়ার সক্ষমতা অর্জন। কিন্তু জানা মতে সবচেয়ে প্রাচীন এই উড়তে অক্ষম পাখির আবিষ্কার সেই একমুখী বা রৈখিক (linear) বিবর্তনের ধারণাকে বদলে দিয়েছে। প্রধান গবেষক ওয়াং মিনের মতে, পাখিদের শারীরিক গঠনের বিবর্তন শুধু ওড়ার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট পথে এগোয়নি। বরং বিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি ছিল অনেক বেশি জটিল, যেখানে পাখিরা খুব দ্রুত বিভিন্ন ধরনের বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার (ecological exploration) চেষ্টা করেছিল।
স্থলচর ডাইনোসর থেকে উড়ন্ত পাখিতে রূপান্তরের ঘটনাটি পৃথিবীর প্রাণীজগতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ম্যাক্রোইভোলিউশনারি মডেলগুলো নির্দেশ করে যে, পাখিদের উৎপত্তি ও প্রাথমিক বৈচিত্র্য জুরাসিক যুগেই ঘটেছিল। কিন্তু এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক সময়ের পাখির জীবাশ্ম খুব একটা পাওয়া যায় না। জীবাশ্মের এই অপ্রতুলতার কারণে পাখিদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শারীরিক গঠন কীভাবে তৈরি হলো, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের কাছে পরিষ্কার কোনো প্রমাণ ছিল না। ফুজিয়ান জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও IVPP-এর যৌথ উদ্যোগে আবিষ্কৃত এই জীবাশ্মটি বিবর্তন ও কালানুক্রমিক রেকর্ডের সেই বিশাল শূন্যস্থান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রজাতির নাম | ইউয়েঝুওর্নিস ইয়াংইউয়েনেনসিস (Yuezhuornis yangyuanensis) |
| ভূতাত্ত্বিক সময়কাল | লেট জুরাসিক যুগ (প্রায় ১৫ থেকে ১৪.৮ কোটি বছর আগে) |
| আবিষ্কারের স্থান | ইয়াংইউয়েন, ফুজিয়ান প্রদেশ, চীন |
| খাদ্যাভ্যাস ও চলাচল | মাংসাশী; উড়তে অক্ষম, ভূমিতে দৌড়ানোর জন্য অভিযোজিত |
| প্রধান গবেষক | ওয়াং মিন (IVPP, চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস) |
| যে জার্নালে প্রকাশিত | নেচার (Nature) |