
নিউজ প্রোভাইডার
জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা, রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর উদ্যোগে, প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষার উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ক সভা আন্ত:প্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব-খিলগাঁও এর সভাপতি এম. হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিতে ও জাহাঙ্গীল বিপ্লবের উপস্য়থাপনায় ১৪ অক্টেবর বিকেল ৩ ঘটিকায় খিলগাঁও গভ: কলোনি স্কুল কলেজ, মিলনায়তনে অনুীষ্ঠত হয় ।
সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহকারী সচিব ও ব্যবস্থাপক জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ, অঞ্জন দাস, বিশেষ হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ইনসান আলী তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল কার্যালয়, আফসানা পারভীন সমাজসেবা কর্মকর্তা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কাকলী আক্তার সহকারী থানা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মতিঝিল ইউনিট, ঢাকা,জহিরুল ইসলাম অধ্যক্ষ খিলগাঁও গভ: কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মো: শাহাদাত হোসেন সরকার সভাপতি-ম্যানেজিং কমিটি খিলগাঁও গভ: কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ সভাপতি-ম্যানেজিং কমিটি খিলগাঁও স্কুল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খিলগাঁও ডা: রেজিয়া এমবিবিএস আরো বক্তব্য রাখেন আন্ত:প্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব-খিলগাঁও এর সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান প্রমূখ ।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে বিশ্বে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশেও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশের ১ কোটি ৭০ লক্ষ প্রবীণরা আমাদের সমাজের পথপ্রদর্শক। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তারা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিকভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়েন। তাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান বয়স্ক ভাতার আওতা বৃদ্ধি করে দেশের সকল দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত প্রবীণদের এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভাতার পরিমাণ সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা প্রয়োজন। বেসরকারি খাতের জন্য একটি সার্বজনীন পেনশন স্কিম পুরোপুরি কার্যকর করা আবশ্যক।
প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে প্রবীণদের জন্য পৃথক ‘জেরিয়াট্রিক ইউনিট’ বা প্রবীণ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র চালু করতে হবে। বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্য বীমা চালু করা সময়ের দাবি।
‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এর যথাযথ এবং কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো সন্তান তার বাবা-মাকে অবহেলা করতে না পারে।
সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রবীণ নিবাস এবং ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ বা বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করা দরকার। যেখানে তারা সমবয়সীদের সাথে সময় কাটাতে এবং মানসিক প্রফুল্লতা বজায় রাখতে পারেন।
প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা কোনো দয়া বা অনুদান নয়, এটি তাদের অধিকার। রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রবীণদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে অবহেলা না করে সুরক্ষার আওতায় আনলে তা দেশের টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।