
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের কারণে কিশোর ও তরুণদের ক্ষতি হতে পারে—এমন অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্য। মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের নিজেদের বা অন্যদের ক্ষতি করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিপজ্জনক আচরণকে উৎসাহিত করতে পারে।
আইওয়া, কানসাস ও অ্যারিজোনাসহ আটটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের আদালতে পৃথকভাবে মামলাগুলো দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন এবং তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ ধরে রাখার জন্য চ্যাটজিপিটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি ব্যবহারকারীদের বক্তব্যের সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় একমত হয়।
মামলাকারীদের দাবি, এই প্রবণতা ব্যবহারকারীদের ভুল ধারণাকে আরও দৃঢ় করতে পারে। এমনকি বিপজ্জনক আচরণে উৎসাহ দেওয়া কিংবা গণগুলির মতো সহিংস ঘটনার পরিকল্পনায় সহায়তা করার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সমন্বিত আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এই মামলাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও বাড়ছে।
এর আগে গত জুনে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল একই ধরনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। সাম্প্রতিক মামলাগুলো এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
মামলাগুলোতে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে ওপেনএআই অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে প্রতিষ্ঠানটি জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতের কাছে এমন নির্দেশনা চেয়েছে, যার মাধ্যমে ওপেনএআইকে চ্যাটজিপিটির কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা যায়। এ ছাড়া মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে স্ব-উন্নয়ন সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বিরত রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে এসব মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ওপেনএআইয়ের কোনো বক্তব্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন