
স্তন ক্যানসার মানেই স্তনের ভেতরে শক্ত চাকা বা পিণ্ড তৈরি হওয়া—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ সব সময় এভাবে প্রকাশ পায় না। কিছু ক্ষেত্রে স্তনের ত্বকের রং, গঠন কিংবা স্তনবৃন্তে অস্বাভাবিক পরিবর্তনও হতে পারে সতর্কসংকেত। বিশেষ করে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী লালচে ভাব, ফোলা বা কমলালেবুর খোসার মতো পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো পিণ্ড তৈরি হওয়ার আগেই ত্বকে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আবার ক্যানসারের চিকিৎসা, বিশেষ করে কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির কারণেও ত্বক, চুল ও নখে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা ক্যানসারের লক্ষণ কি না, সেটি পরীক্ষা করে দেখা জরুরি। সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে স্তন ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। সংক্রমণ, প্রদাহ কিংবা অন্য কারণেও এমন পরিবর্তন হতে পারে। তবে পরিবর্তন স্থায়ী হলে, দ্রুত বাড়লে অথবা এক স্তনে নতুনভাবে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্তন ক্যানসারের একটি বিরল ও আক্রমণাত্মক ধরন হলো ‘ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যানসার’। এ ক্ষেত্রে স্তনের ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ফোলা, গরম অনুভূত হওয়া এবং কমলালেবুর খোসার মতো দেখানোর মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এই ধরনের ক্যানসারে সব সময় স্পষ্ট কোনো পিণ্ড তৈরি হয় না। ফলে কেবল স্তনে চাকা খোঁজা বা নিয়মিত ম্যামোগ্রামের ওপর নির্ভর করে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ইমেজিং ও বায়োপসির ফল বিবেচনা করে রোগ নির্ণয় করেন।
স্তনের ত্বকে লালচে ভাব, ফোলা বা ব্যথা দেখা দিলে অনেক সময় তা সাধারণ সংক্রমণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার পরও এসব লক্ষণ না কমলে কিংবা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুনরায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বায়োপসি করার পরামর্শ দিতে পারেন। তাই দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনকে শুধু একজিমা বা সংক্রমণ ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ও শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। রেডিয়েশন থেরাপির কারণে আক্রান্ত স্থানের ত্বক লাল হওয়া, শুষ্কতা, চুলকানি কিংবা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি।
কেমোথেরাপির একটি পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো চুল পড়ে যাওয়া। কিছু ক্ষেত্রে ভ্রু ও চোখের পাপড়িও পাতলা হয়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট চিকিৎসায় স্ক্যাল্প কুলিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে কিছু রোগীর চুল পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা ব্যবহৃত ওষুধ ও চিকিৎসার ধরনের ওপর নির্ভর করে।
চুল বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা প্রসাধনী ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
স্তনে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে, বিশেষ করে ত্বকের রং বা গঠনে অস্বাভাবিকতা, স্তনবৃন্ত ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা এক পাশের স্তন দ্রুত ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়ার পরও লক্ষণ না কমলে পুনর্মূল্যায়ন জরুরি।
মনে রাখতে হবে, স্তনে কোনো পিণ্ড না থাকলেও ক্যানসার পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার ত্বকের সব পরিবর্তনও ক্যানসারের কারণে হয় না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে অস্বাভাবিক লক্ষণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশক: Touch Bangla News