
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে পূর্বঘোষিত 'লেহরা দো তিরঙ্গা' (তেরঙ্গা ওড়াও) প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। একই সময়ে কনট প্লেসের নিকটবর্তী মান্ডি হাউস থেকে আটক করা হয়েছে বামপন্থী সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)-এর নেত্রী নেহা বোরাকে। একের পর এক নেতাকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারের ঘটনায় দিল্লিতে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কর্মসূচির উদ্দেশে থাকার ভবন থেকে বের হতেই পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে বাধা দেয় ও আটক করে। পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে জানান, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাঁকে আটক করা হচ্ছে এবং সেন্ট্রাল পার্ক বা দিল্লির অন্য কোথাও জমায়েতের অনুমতি নেই। এর প্রতিবাদ জানিয়ে দীপকে বলেন, "নিজের দেশে তেরঙ্গা উড়ানোর জন্য কি দিল্লি পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন? তেরঙ্গা এই দেশের ১৩০ কোটি মানুষের, আমরা যেখানে খুশি পতাকা ওড়াব।" তা সত্ত্বেও তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
কয়েক দিন আগে যন্তর মন্তরে নিয়ম অমান্য করে প্রবেশের অভিযোগ তুলে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে বন্দী। তাঁদের মুক্তি, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে নাগরিক সমাজ, 'আইসা' এবং কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মতো বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে শুক্রবারের এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
কর্মসূচি রুখতে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ ঘোষণা করেছে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল পুলিশি বহর মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের এই আন্দোলনকে কটাক্ষ করে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, দেশের যুবশক্তিকে উসকানি দিয়ে ভুল পথে চালিত করার চক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রতিবেশী বাংলাদেশের আন্দোলন ও পরিস্থিতির রূপরেখার তুলনা টানেন।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| আটক নেতৃত্ব | অভিজিৎ দীপকে (প্রতিষ্ঠাতা, সিজেপি) ও নেহা বোরা (নেত্রী, আইসা) |
| ঘোষিত কর্মসূচির নাম ও স্থান | ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ | সেন্ট্রাল পার্ক, কনট প্লেস, নতুন দিল্লি |
| পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ | প্রতিরোধমূলক আটক, এনডিএমসি কর্তৃক পার্ক বন্ধ ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন |
| আন্দোলনের প্রধান দাবি | তিহার জেলে বন্দী সিজেপি নেতাদের মুক্তি ও নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ |