
মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন, স্পিকার কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে আমরা প্রতিদিন যে অ্যারলেস ‘ব্লুটুথ’ (Bluetooth) প্রযুক্তি ব্যবহার করি, তার নামের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে ১ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক অনন্য ইতিহাস। এই আধুনিক উদ্ভাবনের নামকরণের পেছনে সরাসরি জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক মধ্যযুগীয় ভাইকিং রাজা এবং প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চলের সামাজিক-ধর্মীয় বিপ্লব।
রাজা হ্যারল্ড গর্মসন ছিলেন দশম শতকে ডেনমার্কের পরাক্রমশালী শাসক। তিনি প্রাচীন নর্স সংস্কৃতিতে ‘ব্লাতন’ (Blátǫnn) নামে পরিচিত ছিলেন। ইতিহাসবিদদের মতে, তাঁর কোনো একটি দাঁত মৃত বা পচে গিয়ে নীলচে বা গাড় রঙের হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে তাঁকে সবাই ‘ব্লুটুথ’ বলে ডাকত। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রায় ১৫০ বছর পর প্রথম লিখিত নথিতে এই ডাকনামটির সন্ধান পাওয়া যায়।
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ছোট শহর জেলিং (Jelling)। এই স্থানে রয়েছে দুটি ঐতিহাসিক শিলালিপি বা পাথর। রাজা হ্যারল্ডের নির্দেশে নির্মিত বড় শিলালিপিতে লেখা রয়েছে, তিনি ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিচ্ছিন্ন গোত্রগুলোকে একটি একক রাজ্যে একত্রিত করেন এবং ৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ডেনীয় অঞ্চলে খ্রিষ্টধর্মের সূচনা করেন।
১৯৯৭ সালে যখন ইনটেল, এরিকসন ও নোকিয়ার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ট-রেঞ্জ ওয়ারলেস প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগ নেয়, তখন ইনটেলের প্রকৌশলী জিম কারডাক এই ভাইকিং রাজার ইতিহাস থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাময়িকভাবে কোডনাম দেন 'Bluetooth'। যেভাবে রাজা হ্যারল্ড স্ক্যান্ডিনেভিয়াকে একত্রিত করেছিলেন, সেভাবেই এই প্রযুক্তি বিভিন্ন মেকানিক্যাল ডিভাইসকে এক সুতোয় বাঁধে। পরবর্তীতে নামটি স্থায়ী রূপ পায় এবং ব্লুটুথের লোগোটিও তৈরি করা হয় রাজা হ্যারল্ডের নামের নর্স অক্ষরের (H এবং B) প্রাচীন সংমিশ্রণে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও ঐতিহাসিক তথ্য |
|---|---|
| ঐতিহাসিক চরিত্র | রাজা হ্যারল্ড গর্মসন (Harold Gormsson) - ডেনমার্কের ভাইকিং শাসক |
| মূল ডাকনাম ও অর্থ | ‘ব্লাতন’ (Blátǫnn - নষ্ট বা নীলচে দাঁত) |
| ঐতিহাসিক প্রত্নস্থল | জেলিং শিলালিপি, কোপেনহেগেন থেকে ২৫০ কিমি পশ্চিমে, ডেনমার্ক |
| প্রযুক্তিগত তাৎপর্য | বিভিন্ন মোবাইল ও কম্পিউটার ডিভাইসকে ওয়ারলেস মাধ্যমে সংযুক্ত করা |