
শীতকাল অনেকের কাছেই স্বস্তি ও আনন্দের ঋতু। তবে এ সময় তাপমাত্রা কমে যাওয়া, দিনের আলো কম পাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের কারণে শরীর ও মনে নানা ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রের শুষ্কতা, ঘুমের অনিয়ম এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
শীতজুড়ে সুস্থ থাকতে তাই আগে থেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার মতো সহজ কিছু অভ্যাস এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
শীতের মৌসুমে সুস্থ থাকতে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
শীতকালে গরম স্যুপ, সবজির ঝোল এবং মৌসুমি শাকসবজি খেতে পারেন। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ফল, ডাল, ডিম, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
আদা, দারুচিনি ও লবঙ্গের মতো মসলা খাবারে স্বাদ ও উষ্ণতার অনুভূতি বাড়াতে পারে। তবে সুস্থ থাকতে কোনো একটি বিশেষ খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই ভালো।
ঠান্ডার সময় অনেকেরই পানি পান করার প্রবণতা কমে যায়। কিন্তু শীতকালেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন।
তাই নিয়মিত পানি পান করুন। চাইলে কুসুম গরম পানি, চিনি ছাড়া ভেষজ চা কিংবা লেবুপানিও পান করতে পারেন। শরীরের পানির চাহিদা পূরণে বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও আবহাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার।
শীতের সময় পা উষ্ণ ও শুকনো রাখা আরামদায়ক থাকার একটি সহজ উপায়। এ জন্য আরামদায়ক মোজা ও উপযুক্ত জুতা ব্যবহার করতে পারেন।
কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখলেও আরাম পাওয়া যেতে পারে। তবে পানি অতিরিক্ত গরম করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়ার সমস্যা থাকলে পানির তাপমাত্রা সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শীতের সময় কাজের চাপ, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা কিংবা জীবনযাত্রার পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা প্রয়োজন।
ধ্যান, গভীর শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন, ডায়েরি লেখা কিংবা পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরীর ও মন সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত সময় মুঠোফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলা, আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং রাতে ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত রাখাও ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বয়স ও ব্যক্তিভেদে ঘুমের চাহিদা ভিন্ন হতে পারে।
ঠান্ডার কারণে অনেকেই শীতকালে বাইরে হাঁটতে বা ব্যায়াম করতে অনীহা বোধ করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
তাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নিয়মিত হাঁটুন। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরে হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং কিংবা সহজ শারীরিক কার্যক্রম করতে পারেন। পাশাপাশি সময়মতো খাওয়া ও ঘুমানোর অভ্যাস বজায় রাখুন।
কিছু মানুষ ব্যথা কমানো কিংবা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে আকুপাংচার ব্যবহার করেন। তবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো বা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রমাণ সীমিত।
আকুপাংচার নিতে চাইলে প্রশিক্ষিত ও যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ পদ্ধতিকে কোনো রোগের প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সুস্থ থাকতে সব সময় ব্যয়বহুল পণ্য বা বিশেষ আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা, ভালো ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার মতো অভ্যাসই সুস্থ জীবনযাপনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
শীতের শুরু থেকেই এসব অভ্যাস গড়ে তুললে মৌসুমের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।