সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জেমস আব্দুর রহিম রানার
নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলাম লেখক জেমস আব্দুর রহিম রানা। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় কখনো কোনো নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা কিংবা মানবিক মর্যাদা নির্ধারণের মাপকাঠি হতে পারে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু—পরিচয় যা-ই হোক, রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। বার্তায় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, দুর্গোৎসব শুধু আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ নয়; এটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের এবং অমানবিকতার বিরুদ্ধে মানবতার বিজয়ের প্রত্যয় বহন করে। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকলেও মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই সমান—এই চেতনাকে ধারণ করাই উৎসবের অন্যতম মানবিক শিক্ষা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নয়; এ দেশ সব ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সম্মিলিত আবাসভূমি। দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার গৌরব নির্মাণে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান রয়েছে। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য, ভয়ভীতি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হবেন—এমন বাংলাদেশ কাম্য নয়।
সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা মনে করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেবল উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে নাগরিক জীবনে। ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রত্যেককে নির্ভয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ দেওয়া এবং বিপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই সম্প্রীতির প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, উপাসনালয়ে ভাঙচুর, প্রতিমা অবমাননা কিংবা সাম্প্রদায়িক উসকানির মতো ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনানুগ বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। আবার কোনো সম্প্রদায়ের ন্যায্য উদ্বেগকে উপেক্ষা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অপরাধীর পরিচয়ের পরিবর্তে অপরাধের প্রকৃতি ও প্রমাণকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সবার ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সম্প্রীতি রক্ষায় রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ধর্মীয় সংগঠন, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার, বিদ্বেষ ছড়ানো কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দিয়ে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা পরিহার করতে হবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিতে হবে।
তিনি এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে কোনো শিশুকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অপমানিত হতে হবে না, কোনো পরিবারকে উপাসনা করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না এবং কোনো নাগরিককে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস গোপন করে বাঁচতে হবে না। মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয় নিরাপদ থাকবে এবং সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদায় বসবাস করবেন—এমন সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে তিনি মানুষের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে কথা বলতে চান। তাঁর ভাষায়, সম্প্রীতি মানে অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা নয়; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অবস্থান নেওয়া, বৈষম্যের প্রতিবাদ করা এবং প্রত্যেক মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া।
শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা যেন বিভেদের দেয়াল হয়ে না দাঁড়ায়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ভিত্তি হয়ে উঠুক। তিনি এমন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে বিশেষ সুবিধা পাবেন না, কেউ সংখ্যালঘু বলে অধিকারবঞ্চিত হবেন না এবং পরিচয়নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত হবে।
পরিশেষে শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীর জীবনে আনন্দ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক—এ প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকুক। মানবতার জয় হোক, বাংলাদেশের জয় হোক।