
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখা, পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করার জন্য ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের আলো, কিছু খাবার এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। তবে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম না মানলে উপকারের পরিবর্তে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সময় খাবারের সঙ্গে এর সম্পর্ক, সঠিক মাত্রা এবং শরীরের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখা জরুরি।
ভিটামিন ডি একটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। অর্থাৎ, শরীরের চর্বি বা ফ্যাটের উপস্থিতিতে এটি তুলনামূলক ভালোভাবে শোষিত হয়। এ কারণে খালি পেটে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরিবর্তে খাবারের সঙ্গে বা খাবার খাওয়ার পর এটি গ্রহণ করলে শোষণ ভালো হতে পারে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের পক্ষে তা শোষণ করা সহজ হয়। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা পরিবর্তন করা যেতে পারে।
শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে ভিটামিন ডি। ফলে হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন এবং শক্তি বজায় রাখতে এই ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া পেশির কার্যকারিতা ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কাজেও এটি ভূমিকা রাখে।
শরীরে দীর্ঘদিন ভিটামিন ডির ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে হাড়ের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হাড়ের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সূর্যের আলো ভিটামিন ডি তৈরির অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস। এ ছাড়া তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ কিছু খাবার থেকেও এটি পাওয়া যায়। তবে সবার ক্ষেত্রে খাবার ও সূর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
ভিটামিন ডি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা নিরাপদ নয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে হাইপারক্যালসেমিয়া বলা হয়।
এর ফলে বমি বমি ভাব, বমি, দুর্বলতা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি রয়েছে কি না, তা বিবেচনা না করে নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
ভিটামিন ডি ও ভিটামিন কে২ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেক সময় দুটিকে একসঙ্গে গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ভিটামিন কে শরীরের কিছু প্রোটিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে, যেগুলো হাড়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে সবার জন্য ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে আলাদাভাবে ভিটামিন কে২ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই শুধু ভিটামিন ডি গ্রহণ করছেন বলে নিজে থেকে ভিটামিন কে২ বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট যোগ করা উচিত নয়।
বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের ভিটামিন কে-যুক্ত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি আছে কি না, তা প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, বয়স, শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে সাপ্লিমেন্টের মাত্রা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, সাপ্লিমেন্টের প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদান ও মাত্রা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। একই সঙ্গে একাধিক ভিটামিন বা ক্যালসিয়ামযুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে মোট কতটা ভিটামিন ডি শরীরে প্রবেশ করছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
সবশেষে, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য একই মাত্রায় প্রয়োজন হয় না। তাই নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা গ্রহণ করাই নিরাপদ।