
চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন বগা। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তির কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন বগা। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তার অনুসারীরা ওই ব্যক্তির ভাড়াটিয়ার ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শেখ মুহাম্মদ আরিফের আইনজীবী ইমরানুল করিম পারভেজের ভাষ্য, এ ঘটনায় গত ৬ অক্টোবর খুলশী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় বগাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওই মামলাতেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন বগা। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নাকচ করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে বগার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর মামলা হয়।
মামলা দায়েরের পরদিন তৎকালীন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমের সরকারি মোবাইল ফোনে কল করে বগা তাকে গালাগাল ও মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ৪ সেপ্টেম্বর বগাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, এ সময় বগার অনুসারীরা ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে হামলা চালান। এতে তৎকালীন ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। ভাঙচুর করা হয় ওসির গাড়িও।
তবে ওই অভিযানে বগাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় সবজি বিক্রেতা কিশোর হৃদয় (১৬) হত্যাকাণ্ডের পরও আলোচনায় আসেন বগা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় ৫জি নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। পূর্ববিরোধের জেরে ৭জি নামের আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সে নিহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, ৭জি গ্রুপটি বগা ও তার ছোট ভাই রকি হোসেন পিচ্চি পরিচালনা করেন। হৃদয় হত্যা মামলাতেও বগার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বগার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্ত করেছেন তিনি। চাঁদাবাজির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বগাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য একটি মামলায় বগা হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। এ ছাড়া কিশোর হৃদয় হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি অস্ত্র মামলায় তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে বগার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর রাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই অভিযানে মেয়র শাহাদাত হোসেনের হস্তক্ষেপে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে নগর ভবনে অভিযানের দিন তৎকালীন ওসি আবদুর রহিম ছুটিতে ছিলেন।
ঘটনার পর ওসি আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে বদলি করা হয়। প্রথমে সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চে এবং পরে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।