
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার সব ক্যাটাগরি চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদে। তবে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার স্লট পেতে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ আবেদনকারীরা। তাঁর অভিযোগ, কিছু দালাল ও এজেন্ট নিজেদের স্বার্থে আগেভাগেই স্লট দখল করে রাখেন। ফলে সাধারণ মানুষকে ভিসার আবেদন করতে গিয়ে তাঁদের শরণাপন্ন হতে হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পবন ভাদে।
ভারতীয় ভিসা পরিস্থিতি সম্পর্কে পবন ভাদে বলেন, প্রায় চার মাস আগেই ভিসা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সব ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করা যাচ্ছে। তবে মূল সমস্যা আবেদন জমা দেওয়ার স্লট নিয়ে।
তিনি বলেন, কিছু দালাল ও এজেন্ট নিজেদের স্বার্থে আগেভাগেই স্লটগুলো দখল করে রাখেন। এতে সাধারণ নাগরিকেরা প্রয়োজনীয় স্লট পান না। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁদের এসব দালালের সহায়তা নিতে হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের দুর্গাপূজা উদ্যাপনের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ভারতের এই কূটনীতিক। তাঁর মতে, দুই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার আদান-প্রদান অভিন্ন বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পবন ভাদে বলেন, পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা এড়াতে সরকার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ও প্রয়োজনীয় ঘোষণা দিচ্ছে।
এ সময় তিনি সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এর আগে রোববার বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মির্জাপুরের কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছান পবন ভাদে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক মহাবীর পতি চন্দন, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল হালিম এবং কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক লিটন।
পরে কুমুদিনী লাইব্রেরিতে চা-চক্রে অংশ নেন তিনি। এরপর বজরা নৌকায় লৌহজং নদী পার হয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের পরিবেশনায় আরতি উপভোগ করেন ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার।
এ সময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।