
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে 'ক্ষুদ্র এআই' (Small AI) বা ছোট পরিসরের এআই মডেল তৈরির তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সিলিকন ভ্যালির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন প্রতিনিয়ত অত্যাধুনিক সব এআই পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত, তখন বিশ্বব্যাংক বলছে ভিন্ন কথা। সংস্থাটির চিফ নলেজ অফিসার পাস্কাল ডোনোহো জানিয়েছেন, স্থানীয় মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা এই 'ক্ষুদ্র এআই' উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি এতটাই বাড়িয়ে দিতে পারে যে, যে উন্নয়নে কয়েক শতাব্দী লাগার কথা, তা মাত্র কয়েক দশকেই অর্জন করা সম্ভব।
ডোনোহো ব্যাখ্যা করে বলেন, ক্ষুদ্র এআই মূলত নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে ছোট ডেটাসেট ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া বিশেষায়িত মডেল। এটি স্থানীয় পরিবেশে, অত্যন্ত দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগে এবং ব্যবহারকারীর নিজস্ব মাতৃভাষায় কাজ করতে সক্ষম। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি সাধারণ মোবাইল ফোনেই ব্যবহার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বব্যাংকের 'এগ্রিকানেক্ট' প্রকল্পের আওতায় ভারতের কৃষকদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। কৃষকদের তাদের নিজস্ব ভাষায় মাটি বিশ্লেষণের তথ্যের প্রয়োজন হয়। ডোনোহোর মতে, ভারতের প্রতিটি ছোট খামারের জন্য পর্যাপ্ত বিজ্ঞানী বা কৃষি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া অসম্ভব। আর ঠিক এখানেই কাজ করবে ক্ষুদ্র এআই, যা কৃষকদের হাতে থাকা ফোনেই প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেবে।
এ সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় এআই-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা প্রযুক্তিটির সফলতার জন্য সরকারগুলোকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল অবকাঠামো অপরিহার্য। তবেই এআই সেলফোনের মতোই গণতান্ত্রিক ও সর্বজনীন হয়ে উঠবে।" তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, সময়ের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি এআই-এর কারণে হয় পরিবর্তিত হবে, নয়তো পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে সদ্য প্রবেশ করা তরুণদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে।
গত আগস্টে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক উন্নয়ন প্রতিবেদনে এআই-এর সম্ভাব্য সুবিধার প্রশংসা করা হলেও একটি বড় সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্রামীণ স্কুলে বিদ্যুৎ নেই এবং দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্কুলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে ক্ষুদ্র এআই গেম-চেঞ্জার হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার নেতৃত্বে সংস্থাটি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেসরকারি খাতের অর্থায়ন আকর্ষণে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। ডোনোহো জানান, অনেক দেশ যখন তাদের সহায়তা বাজেট কমাচ্ছে, তখন গত এক বছরে বিশ্বব্যাংক প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার (১২ হাজার কোটি ডলার) বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করেছে, যা সরাসরি কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে যুক্ত।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আলোচিত প্রযুক্তি | ক্ষুদ্র এআই (Small AI) |
| প্রধান সুবিধা | দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগে সাধারণ মোবাইল ফোনে ও স্থানীয় ভাষায় ব্যবহারযোগ্য |
| বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি | পাস্কাল ডোনোহো (চিফ নলেজ অফিসার) |
| আইএমএফ-এর সতর্কতা | বিশ্বব্যাপী ৪০ শতাংশ চাকরি এআই-এর কারণে প্রভাবিত হতে পারে |
| বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন সংগ্রহ | গত এক বছরে ১২০ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ |
| বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ | বিশ্বব্যাংকের 'এগ্রিকানেক্ট' প্রকল্পে ভারতীয় কৃষকদের মাটি বিশ্লেষণের তথ্য প্রদান |