
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১২ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ। প্রায় ২৫ ঘণ্টা সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানের পর গভীর রাতে ওই ১২ জনকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
সোমবার গভীর রাতে সীমান্তের কাঁটাতারের একটি গেট খুলে বিএসএফের দুই সদস্য ওই নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। পরে তাদের একটি পিকআপে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে রোববার ভোরে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত দিয়ে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেন। পরে খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের ৮৩৮ নম্বর প্রধান পিলারের একটি উপপিলারের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। ওই স্থানের বিপরীতে ভারতের মেখলিগঞ্জ মহকুমার বিএসবাড়ি সীমান্তে বিএসএফের ৯৮ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি চা-বাগান এলাকায় তাদের বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রায় ২৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অবস্থানের পর গভীর রাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম ১২ ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুই দিন ধরে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তবে ওই ১২ নাগরিকের পরিচয়, তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার কারণ এবং বর্তমানে তারা কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।