
গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনিতে ‘পারসোনাল ইন্টেলিজেন্স’ নামে নতুন একটি সুবিধা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনুমতি নিয়ে জিমেইল, গুগল ফটোস, গুগল সার্চ ও ইউটিউবের তথ্য কাজে লাগিয়ে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উত্তর দিতে পারবে জেমিনি।
গুগলের বিভিন্ন সেবায় ছড়িয়ে থাকা তথ্য সমন্বয় করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তর দেওয়াই এ সুবিধার মূল লক্ষ্য। ফলে কোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে একাধিক অ্যাপে গিয়ে তথ্য খোঁজার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে প্রতিবার প্রশ্ন করার সময় নিজের পছন্দ, আগের অভিজ্ঞতা কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য নতুন করে ব্যাখ্যা করার ঝামেলাও কমতে পারে।
পারসোনাল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে জেমিনি ব্যবহারকারীর অনুমতি পাওয়া বিভিন্ন গুগল সেবার তথ্য থেকে প্রাসঙ্গিক বিষয় খুঁজে নিয়ে উত্তর দিতে পারবে।
উদাহরণ হিসেবে, কেউ আগে কোনো পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ করে থাকলে এবং পরে আবার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে জেমিনি তার জিমেইলে থাকা পুরোনো বুকিংয়ের তথ্য ও গুগল ফটোসে সংরক্ষিত ভ্রমণের ছবি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া পুরোনো ই-মেইল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা, নির্দিষ্ট ছবি শনাক্ত করা কিংবা ব্যবহারকারীর আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বই ও ভ্রমণস্থলের পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধাটি কাজে আসতে পারে।
অর্থাৎ, প্রতিটি অ্যাপের তথ্য আলাদাভাবে খোঁজার পরিবর্তে একাধিক সেবায় থাকা প্রাসঙ্গিক তথ্য একত্র করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এই সুবিধা।
পারসোনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করতে জেমিনি অ্যাপের সেটিংসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘কানেক্টেড অ্যাপস’ থেকে কোন কোন গুগল সেবার তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা যাবে।
তবে এ সুবিধা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যবহারকারী চাইলে নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রয়োজনে পরে অনুমতি পরিবর্তন করা কিংবা কোনো সংযুক্ত অ্যাপের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সুযোগও রয়েছে।
একাধিক সেবার ব্যক্তিগত তথ্য একত্রে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, জিমেইলের ইনবক্সে থাকা ব্যক্তিগত ই-মেইল কিংবা গুগল ফটোসে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সরাসরি তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় না। তবে জেমিনির সঙ্গে ব্যবহারকারীর কথোপকথন এবং উত্তরের কিছু নমুনা সেবার মান উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
এ কারণে সুবিধাটি চালু করার আগে সংশ্লিষ্ট গোপনীয়তা নীতি ও অ্যাপের অনুমতিগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কোন কোন ব্যক্তিগত তথ্য এআই সহকারীর ব্যবহারের জন্য অনুমোদন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের কাছে এ ধরনের সুবিধার গুরুত্ব শুধু দ্রুত উত্তর পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দ বুঝে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে এআই সহকারীর ব্যবহার আরও সহজ হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।