
রংপুরের আলোচিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত রাজিব হোসেন সুমন ওরফে ‘মেরিল সুমনকে’ গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি)। হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুরে নগরীর উত্তম এলাকায় এসআরবি-১৩-এর রংপুর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এসআরবি-১৩-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে অস্ত্র আইনে ছয়টি, মারধরের আটটি, চাঁদাবাজির চারটি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির তিনটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া হত্যা, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দ্রুতবিচার আইনে মামলা রয়েছে বলে জানানো হয়।
এসআরবি কর্মকর্তারা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিও বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় তিনি সেখানে ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
এসআরবির সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫ সালে রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৫ মেরিল সুমনকে গ্রেফতার করেছিল।
এরপর ২০১৯ সালে রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, ওয়ান শুটারগান ও চায়না কুড়ালসহ তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানানো হয়। ওই অভিযানে তৎকালীন র্যাব-১৩ অংশ নিয়েছিল।
২০২৩ সালে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পিস্তল ও ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিজস্ব একটি বাহিনীর মাধ্যমে মেরিল সুমন রংপুর অঞ্চলের অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারের পর সোমবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে একনজর দেখতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।