![]()
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের জরুরি অ্যালার্ট অ্যাপগুলো ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে দুই দেশের নাগরিকদের কাছে ভুয়া পারমাণবিক ও বিকিরণ (রেডিয়েশন) হামলার বার্তা পৌঁছেছে। সাইবার পরিসরে এই তীব্র উত্তেজনার পাশাপাশি বাস্তব ময়দানেও একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশ দুটি। ঐতিহাসিক ওলেশকি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাইবার পলিসি বিশেষজ্ঞ হার্বার্ট লিন এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, ইউক্রেনের সরকারি অ্যাপে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম হলেও এটিই শেষ নয়।
- 🚨 ভুয়া সতর্কতা: ইউক্রেনের অ্যাপে কিয়েভে বিকিরণ হুমকি এবং রাশিয়ার অ্যাপে পারমাণবিক হামলার ভুয়া বার্তা।
- 💥 জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত: রাশিয়ার কেস্তোভো তেল শোধনাগার এবং ইউক্রেনের ৪টি অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা।
- 🕊️ যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি: খেরসনের ওলেশকিতে ৬ দিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক আগেই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে।
- 🗣️ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া: উভয় দেশই নাগরিকদের শান্ত থাকতে বলেছে এবং অ্যাপের ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে।
ভুয়া পারমাণবিক ও বিকিরণ সতর্কতায় আতঙ্ক
ইউক্রেন প্রথমে এই সাইবার হামলার কথা জানায়। তাদের এয়ার রেইড অ্যালার্ট অ্যাপে কিয়েভে রেডিয়েশন বা বিকিরণ হুমকির একটি ভুয়া বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস এই ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়ার জরুরি অ্যালার্ট অ্যাপেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে ব্যবহারকারীদের কাছে বার্তা পাঠানো হয় যে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার সব অঞ্চলে পারমাণবিক ওয়ারহেড ছোড়া হয়েছে। এমনকি নাগরিকদের জরুরিভিত্তিতে তিন সপ্তাহের খাবার মজুত করে লুকিয়ে পড়ারও পরামর্শ দেওয়া হয় ওই ভুয়া বার্তায়। উভয় দেশের কর্তৃপক্ষই এই অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন বার্তাগুলোকে উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা
সাইবার যুদ্ধের পাশাপাশি দেশ দুটি একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত কেস্তোভো তেল শোধনাগারে ইউক্রেন ‘বিশাল’ ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গরম পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার রাতে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়া প্রচণ্ড তীব্রতার হামলা চালিয়েছে, যার কারণে লাখ লাখ ঘরবাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ওলেশকি যুদ্ধবিরতি সমাপ্তি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
এই সাইবার হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার মাত্র কয়েক মিনিট পরই খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে ৬ দিনের একটি বিরল যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতির ফলে শত শত মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তাদের অ্যাপটি হ্যাক হলেও সাইরেন, টিভি ও রেডিওর মতো মূল সতর্ক ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সাইবার পরিসরেও এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এক নজরে রাশিয়া-ইউক্রেন সাইবার ও ভৌত হামলা
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মূল ঘটনা | রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি অ্যালার্ট অ্যাপ হ্যাক |
| ইউক্রেনে ভুয়া বার্তা | রাজধানী কিয়েভে বিকিরণ (Radiation) হুমকির সতর্কতা |
| রাশিয়ায় ভুয়া বার্তা | ইউক্রেনীয় ড্রোন দিয়ে পারমাণবিক হামলার সতর্কতা ও মজুতের নির্দেশ |
| ভৌত (Physical) হামলা | রাশিয়ার কেস্তোভো শোধনাগার এবং ইউক্রেনের ৪টি অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত |
| যুদ্ধবিরতি এলাকা | ওলেশকি, খেরসন (৬ দিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি শেষ) |
| বিশেষজ্ঞের মন্তব্য | এমন হামলা ভবিষ্যতেও হতে পারে (হার্বার্ট লিন, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি) |
