Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৬ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

দেশে হচ্ছে ৩ নতুন সার কারখানা, উৎপাদন বাড়বে যেসব এলাকায়

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

দেশে সার উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীর পলাশে এসব কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কারখানাগুলোর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে সার উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সারের সরবরাহ জোরদার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিসিআইসি।

দেশে সারের চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর

বিসিআইসির অধীনে বর্তমানে সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া এবং দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, ওই অর্থবছরে দেশে টিএসপি সারের চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার ৯ দশমিক ১০ শতাংশ পূরণ হয়েছে দেশীয় উৎপাদনে।

একই সময়ে ডিএপি সারের চাহিদা ছিল ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন, যা মোট চাহিদার ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ফলে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।

বিসিআইসির কর্মকর্তারা জানান, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপিতে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা

নতুন পরিকল্পনার অন্যতম বড় প্রকল্প ভোলায় ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কারখানাটি চালু রাখতে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানিয়েছেন, দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত কারখানাটি বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ

ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় নতুন টিএসপি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় কারখানাটি স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ মেট্রিক টন।

বর্তমানে কাঁচামালের সংকট এবং কারখানার বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

নতুন কারখানাটি স্থাপন করা হলে দেশে টিএসপি সারের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে বিসিআইসি।

নরসিংদীর পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা

নতুন তিনটি প্রকল্পের আরেকটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে নরসিংদীর পলাশে।

ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমির ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়তে পারে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজারের চাহিদা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

নতুন কারখানায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত তিনটি কারখানা বাস্তবায়িত হলে নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এতে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনাসংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ এবং অন্যান্য সেবা খাতেও কাজের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এসব প্রকল্পে ঠিক কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি এবং জনবল কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

সব মিলিয়ে, নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি খাতে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।