![]()
বর্জ্য দিলেই মিলবে চাল-ডাল-তেল! ঢাকা দক্ষিণে শুরু হলো অভিনব ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বর্জ্যকে মুদ্রায় রূপান্তরের এক অভিনব কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নামের এই প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মানুষ তাদের সংগৃহীত প্লাস্টিক ও অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য জমা দিয়ে বিনিময়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন।
- 📍 উদ্বোধন: সোমবার হাজারীবাগের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে।
- 🎯 লক্ষ্যমাত্রা: আগামী এক বছরে ১০০টি মোবাইল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ লাখ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ।
- 📅 সম্প্রসারণ: এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে স্থায়ী স্টল এবং ৩-৪ মাসের মধ্যে সব ওয়ার্ডে চালু।
- 🤝 যৌথ আয়োজক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
শহর পরিচ্ছন্নতায় প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ
সোমবার হাজারীবাগে একটি বস্তির পাশের মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এই মডেলটির মূল লক্ষ্য হলো নিম্ন আয়ের মানুষদের কেবল সাহায্যগ্রহীতা না ভেবে, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রমে তাদের সরাসরি অংশীদার বানানো। যত্রতত্র বা ড্রেনে প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য ফেলার কারণে বর্ষাকালে যে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, তা রোধ করতেই এই অর্থনৈতিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একনজরে: বর্জ্য বিনিময় মডেল ও বিদ্যানন্দের সাফল্য
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| বিনিময়যোগ্য পণ্য | চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ, আলু, টিস্যু ইত্যাদি |
| বিদ্যানন্দের অতীতের আয় | গত ২ বছরে প্লাস্টিক বিক্রি থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় |
| অর্জিত সুফল | উক্ত অর্থে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে খাবার প্রদান |
| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | পথশিশুদের জন্য ‘বইয়ের বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি |
আসছে ‘বইয়ের বিনিময়ে খাবার’
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন জানান, তারা প্রান্তিক মানুষকে শুধু সাহায্যই করছেন না, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছেন। পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ করলে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকেরও যে বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।
এরই ধারাবাহিকতায় ডিএসসিসি ভবিষ্যতে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রগুলোতে (এসটিএস) সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জন্য ‘বইয়ের বিনিময়ে খাবার’ শীর্ষক আরেকটি চমৎকার প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করেছে। সেখানে চেয়ার, টেবিল ও বইয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে পড়ার সুযোগের পাশাপাশি খাবারও পাবে শিশুরা।
