Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ১০ জুন ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

‎সরকারকে সহযোগিতা করে ব্যালেন্স বাংলাদেশ গড়ো

প্রতিবেদক
Touch Bangladesh News
জুন ১০, ২০২৬ ৩:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

‎স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল

‎রাষ্ট্রীয়বাদী চিন্তাধারা আমাদের শেখায় যে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের চেয়ে বড়। রাষ্ট্র টিকে থাকে জনগণের ঐক্য, দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে। তাই রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে তাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সকল নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বাংলাদেশকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে সরকার ও জনগণের মধ্যে সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের সমালোচনা করা অস্বাভাবিক নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তা প্রয়োজনীয়। কিন্তু সমালোচনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংশোধন ও উন্নয়ন, ধ্বংস বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি নয়। আজ আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো সমস্যা দেখা দিলেই সরকারকে দায়ী করা হয়; কিন্তু সমস্যার সমাধানে নাগরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম হয়। অথচ একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সরকার ও জনগণ উভয়েই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী চেতনা বলে, রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকটকে জাতীয় সংকট হিসেবে দেখতে হবে। অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ দূষণ, দুর্নীতি কিংবা সামাজিক অবক্ষয়—এসব সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়। এগুলোর সমাধানে সরকার যেমন নীতিনির্ধারণ করবে, তেমনি জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হয় না; তা হয় জনগণের উৎপাদনশীলতা, সততা, পরিশ্রম এবং জাতীয় স্বার্থে অবদানের মাধ্যমে।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী সমাজে নাগরিকরা শুধু অধিকার ভোগ করে না, দায়িত্বও পালন করে। একজন ব্যবসায়ীর ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, একজন শিক্ষককের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান, একজন চিকিৎসকের মানবিক সেবা, একজন কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং একজন শ্রমিকের নিষ্ঠাবান কর্মপ্রচেষ্টা—সবকিছুই রাষ্ট্র নির্মাণের অংশ। তাই উন্নত বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব কেবল সচিবালয় বা মন্ত্রণালয়ের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের কাঁধে সমানভাবে ন্যস্ত।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব রাষ্ট্র দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। সেখানে সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা একতাবদ্ধ থেকেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা সমানভাবে প্রযোজ্য। রাজনৈতিক বিভাজন, মতাদর্শগত ভিন্নতা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ যদি জাতীয় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতি ব্যাহত হবে।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী দায়িত্ববোধ আমাদের আরও শেখায় যে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা, আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা দেশপ্রেমেরই অংশ। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, কর ফাঁকি দেওয়া, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা—এসব কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই দুর্বল করে। তাই সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি নিজেদের আত্মসমালোচনাও জরুরি। রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হলে নাগরিক চরিত্রকেও শক্তিশালী করতে হবে।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী বাস্তবতা হলো, বর্তমান বিশ্বে কোনো রাষ্ট্র এককভাবে টিকে থাকতে পারে না। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে একটি সক্ষম ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এই সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী বাংলাদেশ গড়ার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে ইতিবাচক অংশগ্রহণ। শুধু সমস্যার তালিকা তৈরি নয়, বরং সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া; শুধু সমালোচনা নয়, বরং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা; শুধু দাবি নয়, বরং দায়িত্বও পালন করা—এসবের মধ্য দিয়েই একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী চেতনার আলোকে আজ প্রয়োজন একটি “ব্যালেন্স বাংলাদেশ”। এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করবে সুশাসন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে, আর জনগণ রাষ্ট্রের উন্নয়নে অংশ নেবে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে। যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে বিভেদ থাকবে না; যেখানে সমালোচনা থাকবে, কিন্তু তা হবে গঠনমূলক; যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষতির বিনিময়ে নয়।

‎বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের সম্মিলিত প্রজ্ঞা, ঐক্য এবং দায়িত্ববোধের ওপর। রাষ্ট্রকে উন্নত করতে হলে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে, আবার সরকারকেও জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। পারস্পরিক আস্থা, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রকেন্দ্রিক উন্নয়ন দর্শনের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ বাংলাদেশ। সময়ের দাবি একটাই—দোষারোপ নয়, সমাধান; বিভাজন নয়, ঐক্য; সংঘাত নয়, সহযোগিতা। আর এই পথেই নির্মিত হবে আগামীর শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাশীল ও ব্যালেন্স বাংলাদেশ।

লেখক: স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল (সিইও, প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ সাপোর্টার্স ফোরাম)

‎[বি.দ্র. : এটি  কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে।  রাষ্ট্রীয়বাদী ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।