![]()
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা দুটি মৌসুমে কোনো ট্রফি না জিতলেও এবং বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় সত্ত্বেও নিজেকে ব্যালন ডি’অরের যোগ্য দাবি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ‘ফ্রান্স ফুটবল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড জোর দিয়ে বলেছেন, একক পারফরম্যান্সের বিচারে তিনিই চলতি মৌসুমে বিশ্বের সেরা।
ট্রফিহীনতা বনাম ব্যক্তিকেন্দ্রিক পুরস্কার
ট্রফি না জেতা নিয়ে সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন:
“মানুষ বলছে আমি ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে কোনো ট্রফি জিতিনি, কিন্তু এটি তো একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। আমি কখনো কাউকে সর্বসম্মতিক্রমে (১০০% ভোটে) ব্যালন ডি’অর জিততে দেখিনি। তার মানে সবসময়ই এমন কেউ থাকে যে মনে করে বিজয়ী ট্রফিটি পাওয়ার যোগ্য ছিল না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মেসি এবং রোনালদোর যুগ থেকে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আমার যে ধারণা গড়ে উঠেছে—তা হলো এটি সাধারণ কোনো খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় না, অসাধারণদের দেওয়া হয়। আমি মনে করি এ বছর আমি ব্যতিক্রমী কিছু করে দেখিয়েছি, তাই ট্রফিটি জেতার দৌড়ে আমি আছি।”
পরিসংখ্যানের ঝুলিতে রেকর্ড
চলতি মৌসুমে দলগত ট্রফি না থাকলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ছিল চোখে পড়ার মতো:
-
লা লিগা: ২৫টি গোল
-
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: ১৫টি গোল (স্বর্ণপদক/গোল্ডেন বুট জয়ী)
-
বিশ্বকাপের বিশ্বরেকর্ড: ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ সর্বমোট গোল ২২-এ নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি। তিনি লিওনেল মেসির রেকর্ড ভেঙে এই চূড়ায় পৌঁছান।
নিজের পারফরম্যান্স তুলে ধরে এমবাপ্পে বলেন, “বড় বড় টুর্নামেন্টে যেখানে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা খেলেন, সেখানে এত গোল করা এবং বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সামান্য বিষয় নয়। ২৭ বছর বয়সেই মেসির মতো কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙা স্পেশাল কিছু।”
জিদানকে নিয়ে উচ্ছ্বাস
দিদিয়ে দেশমের বিদায়ের পর ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী জিনেদিন জিদানের প্রশংসায় মেতে ওঠেন দলটির অধিনায়ক এমবাপ্পে।
জিদানকে নিয়ে তিনি বলেন, “ফরাসিদের কাছে ‘জিজু’ মানে এক জাতীয় আবেগ, যিনি মার্জিত ভাব ও মহত্ত্বের প্রতীক। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ফরাসি ফুটবলে যে ছাপ রেখে গেছেন তা চিরস্থায়ী। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন।”
