![]()
আর্সেনালের বিপক্ষে হারের ধাক্কা সামলে শনিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরেছে চেলসি। তবে তাদের সামনে এবার অপেক্ষা করছে একদমই ভিন্ন ধরনের এক চ্যালেঞ্জ—হাল সিটির জমাট প্রতিরোধ।
শুরুতেই বাজিমাত করা চেলসি কোচ জাবি অলনসোর দল চলতি প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিন ম্যাচে করেছে আট গোল। মাঝসপ্তাহে লিগ কাপে লিডস ইউনাইটেডকে ৬-৩ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের আক্রমণভাগের ধার প্রমাণ করেছে তারা। আক্রমণভাগে কোল পালমার, মরগান রজার্স ও জোয়াও পেদ্রো দ্রুত দলের মূল শক্তি হয়ে উঠেছেন। এমনকি লিগের তিনটি ম্যাচেই ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে গোল দেওয়ার অনন্য এক নজির গড়েছে চেলসি।
তবে তাদের আজকের প্রতিপক্ষ হাল সিটির গল্পটা ঠিক উল্টো।
কোচ সার্গে জাকিরোভিচের অধীনে সদ্য প্রিমিয়ার লিগে আসা দলটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, কভেন্ট্রি ও অ্যাস্টন ভিলার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক গোলও হজম করেনি। তুলে নিয়েছে মূল্যবান সাত পয়েন্ট। চলতি লিগে একমাত্র দল হিসেবে এখনো পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা।
তবে এই ক্লিনশিটগুলোর পেছনে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার গল্প নেই। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ২৬.৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছিল হাল সিটি। তারা মূলত ৫-৪-১ ফরমেশনে জমাট রক্ষণ বা ‘লো-ব্লক’ বজায় রেখে খেলে। প্রতিপক্ষকে বল ছেড়ে দিয়ে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় থাকে তারা। গোলরক্ষক কনস্ট্যান্টিনোস জোলাকিস দলের অন্য যে কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে বেশি পাস পাঠিয়েছেন—যা থেকে স্পষ্ট যে, মাঝমাঠ এড়িয়ে বল সরাসরি সামনে পাঠানোর কৌশলেই ভরসা রাখছে তারা।
আর এটাই চেলসির জন্য নতুন এক পরীক্ষা। অলনসোর দলের আক্রমণভাগ উন্মুক্ত জায়গায় দ্রুত গতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পারদর্শী। কিন্তু হাল সিটি নিশ্চিতভাবেই তাদের সেই জায়গা সহজে ছেড়ে দেবে না।
দর্শকদের নজর থাকবে হালের স্ট্রাইকার অলি ম্যাকবার্নির ওপর। প্রতিপক্ষের অর্ধে দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি (২৯টি) ডুয়েল জিতেছেন তিনি। পাশাপাশি পুরো প্রিমিয়ার লিগে প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ ২৫৮ বার উচ্চমাত্রার চাপে (হাই-ইন্টেনসিটি প্রেশার) ফেলার রেকর্ডও তার। বল ধরে রেখে মাঝমাঠের অন্য খেলোয়াড়দের আক্রমণে টেনে আনার এই ক্ষমতা চেলসির প্রেসিং সামলাতে হাল সিটিকে বড় অস্ত্র যোগাবে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের এই শক্তির কথা স্বীকার করেছেন চেলসি কোচ জাবি অলনসোও। হাল সিটির কাউন্টার-অ্যাটাক এবং সেট-পিসের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানান, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে ইনজুরির কারণে এই ম্যাচেও চেলসি পাচ্ছে না মোইসেস কাইসেদোকে। হাঁটুর চোট থেকে এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেননি এই মিডফিল্ডার। রবিনো লাভিয়া দলে ফিরলেও বাদ পড়েছেন জর্ডান হেন্ডারসন ও ইমানুয়েল এমেগা।
কাইসেদোর অনুপস্থিতি এই ম্যাচে চেলসির জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো ম্যাচজুড়ে চেলসি হয়তো হাল সিটির ডি-বক্সের আশপাশেই নিজেদের অবস্থান রাখবে। কিন্তু প্রতিবার বল হাতছাড়া হলেই ম্যাকবার্নির সরাসরি আক্রমণ এবং দ্বিতীয় বল দখলের লড়াইয়ে চেলসিকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে।
হাল সিটির সাম্প্রতিক রক্ষণাত্মক পরিসংখ্যান সেরা হলেও তারা প্রতিপক্ষকে বিপজ্জনক জায়গায় ঢোকার সুযোগ দিয়েছে। ফলে শনিবারের ম্যাচে চেলসির জন্য হুটহাট আক্রমণ নয়, বরং ধৈর্যের পরিচয় দেওয়াটাই হবে আসল চাবিকাঠি।
অলনসোর দলের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই—লিগের অন্যতম বিধ্বংসী আক্রমণভাগ কি পারবে রক্ষণাত্মক খোলসে আবৃত একটি দলকে ভেঙে চুরমার করতে?
