Touch Bangladesh
ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

‎সংবিধান কখনোই পরিবর্তন করা যায় না, যারা সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলে তারা ভুঁইফোড়

প্রতিবেদক
Md. Saiful Islam Journalist
মে ১৯, ২০২৬ ১:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading


‎স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল

‎রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, জাতির আদর্শ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার সর্বোচ্চ দলিল হলো সংবিধান। এটি কেবল কয়েকটি ধারা-উপধারার সমষ্টি নয়; বরং একটি জাতির জন্ম, সংগ্রাম, চেতনা ও ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা। তাই সংবিধানকে বারবার পরিবর্তনের বিষয় হিসেবে দেখা কোনো সভ্য ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক হতে পারে না। বরং সংবিধান হওয়া উচিত এমন এক মৌলিক ভিত্তি, যা সময়ের প্রয়োজনে সংযোজন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমৃদ্ধ হবে, কিন্তু তার মূল আদর্শ ও কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।

‎সম্প্রতি ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল বলেছেন, “সংবিধান কখনোই পরিবর্তন করা যায় না, যারা সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলে তারা ভুঁইফোড়।” তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মনেও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে—রাষ্ট্রের মূল সংবিধান কি আদৌ পরিবর্তনের বিষয়, নাকি তা কেবল সময়োপযোগী সংযোজনের মাধ্যমে টিকে থাকা উচিত?

‎একটি রাষ্ট্র যখন জন্ম নেয়, তখন তার সংবিধানও জন্ম নেয় সেই রাষ্ট্রের মূল চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে। আমাদের দেশের সংবিধানও তেমনই একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম, জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বহন করে। এই সংবিধান কেবল আইন নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ফলে এটিকে ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা মানে রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।

‎বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, শক্তিশালী ও স্থিতিশীল দেশগুলো তাদের মূল সংবিধানের ভিত্তিকে অটুট রেখেছে। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী তারা নতুন ধারা যুক্ত করেছে, কিছু ধারা সংশোধন করেছে, আবার কিছু বিষয় সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় রেখেছে। কিন্তু তারা কখনোই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন দর্শনকে পুরোপুরি মুছতে পারেনি। কারণ একটি রাষ্ট্রের মূল আদর্শ বদলে যেতে পারে না।

‎আজকাল রাজনৈতিক স্বার্থে এবং কিছু অসৎ মানুষের সুবিধার্থে সংবিধান পরিবর্তনের দাবি প্রায়ই শোনা যায়।কিন্তু রাষ্ট্রীয়বাদী দেশে সংবিধান কখনোই পরিবর্তন হতে পারে না। কোনো দল ক্ষমতায় এলে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়, আবার ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে সংশোধনের আলোচনা শুরু হয়। এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। কারণ সংবিধান যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার হাতিয়ার হয়ে যায়, তাহলে জনগণের আস্থা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র তখন আর স্থিতিশীল থাকে না; বরং বিভক্তি ও অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হয়।

‎এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সংবিধানে সংযোজন ও পরিবর্তনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সংযোজন মানে হচ্ছে সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কিছু যুক্ত করা, যা রাষ্ট্রের মূল আদর্শকে অক্ষুণ্ণ রাখে। কিন্তু পরিবর্তন মানে হচ্ছে সেই ভিত্তিকেই পাল্টে ফেলা। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির উন্নয়ন, মানবাধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা বা নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর প্রয়োজনে নতুন ধারা যুক্ত করা যেতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি, স্বাধীনতার চেতনা কিংবা জনগণের সার্বভৌমত্বকে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। সংবিধানের জন্মলগ্মে যারা স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের সাথে এবং সৃষ্টিকর্তার সাথে বেইমানি করার সমতুল্য।

‎ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—যেগুলো প্রয়োজন নেই, সেগুলো আপাতত “ইনএকটিভ” করে রাখা যেতে পারে। এই ধারণাটি বাস্তবসম্মত ও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সব ধারা সব সময় সমানভাবে কার্যকর নাও থাকতে পারে। সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা সময়ের সঙ্গে বদলায়। তাই কিছু বিধান সাময়িকভাবে অকার্যকর রাখা হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তা পুনরায় কার্যকর করা যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে সময়ের প্রয়োজনও পূরণ হয়।

‎আমাদের মনে রাখতে হবে, সংবিধান কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, কোনো রাজনৈতিক দলেরও নয়। এটি একটি স্বাধীন দেশের সম্পদ এবং রাষ্ট্রের আত্মা। যারা বারবার সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলে, তারা অনেক সময় রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার চেয়ে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভকে প্রাধান্য দেয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেসব দেশে সংবিধানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো হয়েছে, সেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে এবং জনগণের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎বর্তমান সময়ে সবচেয়ে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি করা উচিত নয়। কারণ সংবিধান নিয়ে অতিরিক্ত টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই দুর্বল করে দেয়। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে সংবিধানকে শ্রদ্ধা করতে হবে, তার মৌলিক আদর্শকে রক্ষা করতে হবে এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংযোজন করতে হবে।

‎নতুন প্রজন্মের কাছেও সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরা জরুরি। আজকের তরুণদের অনেকেই সংবিধানকে কেবল পরীক্ষার বিষয় হিসেবে দেখে। অথচ এটি তাদের অধিকার, স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার ভিত্তি। তাই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।

‎সবশেষে বলা যায়, সংবিধান একটি রাষ্ট্রের আত্মপরিচয় ও অঙ্গীকারের প্রতীক। এটিকে বারবার পরিবর্তনের বিষয় না বানিয়ে বরং সময়ের প্রয়োজনে সংযোজন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা উচিত। কারণ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে যে চেতনার জন্ম হয়, সেই চেতনাই সংবিধানের প্রাণ। আর সেই প্রাণকে অক্ষুণ্ণ রাখাই একটি জাতির দায়িত্ব, কর্তব্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অঙ্গীকার।

‎লেখক: স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল (সিইও, প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ সাপোর্টার্স ফোরাম)

[বি.দ্র. : এটি  কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে।  রাষ্ট্রীয়বাদী ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।