![]()
ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো বিদেশ থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে এক কঠিন কৌশলগত দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর দ্রুত দেশে প্রত্যাবর্তনে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য গত বছরের শেষ দিকে দেশ ছাড়ার পর থেকে বিদেশেই অবস্থান করছেন তিনি। জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতন এবং জুনের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর একাধিকবার দেশে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিলেও, মার্কিন কর্তাদের অনুরোধেই মাচাদোকে তাঁর প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত করতে হচ্ছে।
- 🚫 ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন অনুরোধ: দেশে ফিরে জনমত গঠন করলে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে—এমন আশঙ্কায় মাচাদোকে আপাতত দেশে না ফেরার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের।
- 📉 জনপ্রিয়তায় ধস: লাতিন পালস জরিপে মাচাদোর গ্রহণযোগ্যতা জুলাইয়ের ৭২ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
- 🛢️ ডেলসি রদ্রিগেজ ও মার্কিন তেল চুক্তি: মাদুরোর সাবেক ডেপুটি ও বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে বৃহৎ তেল চুক্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
- 🗳️ নির্বাচন পেছানোর বার্তা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলায় নতুন গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের সময় এখনো হয়নি।
ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তেল চুক্তি, নির্বাচন আয়োজনে অনাগ্রহ
মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে মার্কিন সরকার ও প্রধান জ্বালানি কোম্পানিগুলো ভেনিজুয়েলার খনিজ তেল আহরণে বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ট্রাম্প চলতি মাসেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ভেনিজুয়েলায় নির্বাচন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। অন্যদিকে মাচাদোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাচাদোর দেশে ফেরার অধিকার থাকলেও বিদেশে প্রবাসী ভেনিজুয়েলানদের সংগঠিত করতেই তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।
ভূমিকম্পের আঘাত ও কমছে মাচাদোর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা
গত জুনের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলায় অন্তত সাড়ে ৬ হাজার মানুষ নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকেন। মানবিক এই বিপর্যয়ের পর মাচাদো দেশে ফেরার কথা দিলেও শেষ পর্যন্ত না ফেরায় তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এটলাসইনটেল ও ব্লুমবার্গের যৌথ ‘লাতিন পালস’ জরিপে দেখা গেছে, জুলাইয়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ৭২ শতাংশ থাকলেও আগস্টে তা কমে ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই এই দরপতনের কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত মাচাদো গোষ্ঠী
ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে ওয়াশিংটন সমর্থিত যে সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে, সেখান থেকে মাচাদোর রাজনৈতিক আন্দোলনকে বাইরে রাখা হয়েছে। মাচাদো নিজে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন ২০১৫ সালের আইনসভার নেতাদেরই প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে মাচাদোর জনপ্রিয়তা এখনও অন্য যেকোনো নেতার চেয়ে বেশি। সাধারণ ভেনিজুয়েলানদের একাংশ এখনো আশাবাদী যে, মাচাদো দেশে ফিরে সরাসরি রাজপথে নামলেই একটি অবাধ নির্বাচন ও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম হবে।
ভেনিজুয়েলা সংকট: মূল পক্ষসমূহের অবস্থান ও ভূমিকা
| পক্ষ / ব্যক্তিত্ব | বর্তমান অবস্থান | মূল লক্ষ্য ও কৌশল |
|---|---|---|
| মারিয়া করিনা মাচাদো | পানামায় অবস্থানরত বিরোধী নেতা | স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিতকরণ এবং দেশে ফিরে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করা। |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্র) | আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ও মূল নিয়ন্ত্রক | নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে তেল খাত থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া। |
| ডেলসি রদ্রিগেজ | অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট | ওয়াশিংটনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখে নিজের শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। |
