![]()
জান্নাতের পাখি রামিসা
কবি – জেমস আব্দুর রহিম রানা।
প্রিয় সোনামণি রামিসা,
তোমার নাম উচ্চারণ করলেই
আজ আকাশটা কেমন ভারী হয়ে আসে,
বাতাসে জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।
মানবতা আজ তোমার কাছে লজ্জিত,
কারণ এই পৃথিবী
তোমার মতো নিষ্পাপ এক ফুলকে
নিরাপদ রাখতে পারেনি।
তুমি তো ছিলে
ভোরের শিশিরভেজা কচি গোলাপ,
মায়ের কোলজুড়ে ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্ন,
বাবার চোখের আলো,
বোনের ছোট্ট পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।
তুমি ছিলে এক টুকরো ভবিষ্যৎ,
যার হাসিতে ভরে উঠত একটি ঘর,
একটি পরিবার,
একটি জীবন।
কিন্তু হঠাৎই
অন্ধকার নেমে এলো নিষ্ঠুর হয়ে।
মানুষরূপী হায়েনার লালসা
একটি নিষ্পাপ প্রাণ কেড়ে নিল,
রক্তাক্ত করল মানবতার মুখ।
তবুও জেনে রেখো রামিসা,
তোমার চলে যাওয়া কখনো হার নয়—
হার হয়েছে সেই নরপশুর,
যে নিজের মানবতাকেই হত্যা করেছে।
তুমি আজ পৃথিবীর মাটি ছেড়ে
চলে গেছ অনেক দূরে,
কিন্তু তোমার নিষ্পাপ মুখ
এখনো ভেসে ওঠে মানুষের চোখে,
তোমার ছোট্ট হাসি
এখনো কাঁদায় হাজার হৃদয়।
তোমার জন্য আজ
আকাশও যেন নীরব হয়ে গেছে,
চাঁদটাও লুকিয়েছে মেঘের আড়ালে।
আমরা বিচার চাই—
শুধু একটি পরিবারের কান্নার জন্য নয়,
সমস্ত শিশুর নিরাপত্তার জন্য।
আমরা চাই সেই নরপশুর
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,
যাতে আর কোনো রামিসা
এভাবে ঝরে না যায়,
আর কোনো মা
খালি বুকে সন্তানের কাপড় জড়িয়ে না কাঁদে।
হে আল্লাহ,
এই ছোট্ট ফেরেশতাকে
জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।
তাকে জান্নাতের পাখি করে রাখুন
আপনার রহমতের ছায়ায়।
আর তার মা-বাবা, বোন
ও আপনজনদের দিন ধৈর্য,
দিন সহ্য করার শক্তি।
রামিসা,
তুমি নেই—
তবু তুমি থাকবে
প্রতিটি বিবেকবান মানুষের চোখের জলে,
প্রতিটি প্রতিবাদের কণ্ঠে,
প্রতিটি দোয়ার শব্দে।
তুমি শান্তিতে ঘুমাও সোনামণি,
এই পৃথিবী তোমাকে ভুলবে না কখনো। #
কবি- জেমস আব্দুর রহিম রানা
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।
মোবাইল; ০১৩০০৮৩২৮৬৮
