![]()
নতুন এক ব্রেইন-ইমেজিং গবেষণায় দেখা গেছে, নিবিড় শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Intensive breathwork) মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ‘ইসিএনপি’ (ECNP) কংগ্রেসে উপস্থাপিত এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এই ব্যায়ামের ফলে তাদের মধ্যে সাইকেডেলিক বা বিভ্রম সৃষ্টিকারী ওষুধের (যেমন এলএসডি) মতো অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে উপলব্ধির পরিবর্তন, গভীর মানসিক চিত্রকল্প এবং মহাবিশ্বের সাথে একাত্মবোধের মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
- 🧠 মস্তিষ্কে প্রভাব: সেশনের সময় মস্তিষ্কের ধূসর বস্তুতে (grey-matter) রক্তপ্রবাহ গড়ে ৪৫% হ্রাস পায়।
- 🌌 সাইকেডেলিক অনুভূতি: অংশগ্রহণকারীরা এলএসডি (LSD) বা সিলোসাইবিনের মতো মহাজাগতিক সংযোগ ও উপলব্ধির পরিবর্তন অনুভব করেন।
- 🔬 গবেষণার ধরন: ৩০ জন সুস্থ ও অভিজ্ঞ ব্রেথওয়ার্ক অনুশীলনকারীর ওপর এমআরআই (MRI) স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়।
- 💡 মানসিক স্বাস্থ্যে সম্ভাবনা: ওষুধবিহীন (non-pharmacological) এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।
এমআরআই স্ক্যানে মস্তিষ্কের পরিবর্তন ও সাইকেডেলিক অনুভূতি
গবেষণাটিতে ৩০ জন সুস্থ এবং অভিজ্ঞ ব্রেথওয়ার্ক অনুশীলনকারী অংশ নেন, যারা এমআরআই স্ক্যানিংয়ের সময় উচ্চ-বায়ুচলাচল বা ‘হাই-ভেন্টিলেশন’ ব্রেথওয়ার্ক করেন। স্ক্যানিংয়ে দেখা যায়, মস্তিষ্কের গ্লোবাল গ্রে-ম্যাটার সেরিব্রাল রক্তপ্রবাহ গড়ে ১৬.২৪ থেকে কমে ৯.৮১ মিলি/১০০ গ্রাম/মিনিটে নেমে আসে। যারা চেতনার তীব্র পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন, তাদের মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্কে’ বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা মূলত আত্ম-বিশ্লেষণ এবং নিজের সম্পর্কে চিন্তার সাথে যুক্ত। গবেষকরা বলছেন, নিছক রক্তপ্রবাহ কমার চেয়ে মস্তিষ্কের এই নেটওয়ার্কগুলোর যোগাযোগে পরিবর্তনই এই ভিন্ন অনুভূতির মূল কারণ।
রক্তপ্রবাহ কমার চেয়েও স্নায়বিক যোগাযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ
জার্মানির ম্যানহাইমস্থ সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথের প্রধান গবেষক ড. ক্রিশ্চিয়ান স্মিটজ বলেন, “অনেকেই নিবিড় ব্রেথওয়ার্ক অনুশীলনের পর উপলব্ধি ও আত্ম-অভিজ্ঞতায় গভীর পরিবর্তনের কথা জানান, তবে এর পেছনের মস্তিষ্কের প্রক্রিয়াটি এতদিন অস্পষ্ট ছিল। আমাদের গবেষণা বলছে, এই অভিজ্ঞতাগুলো কেবল মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমার সাথেই নয়, বরং মূল ব্রেইন নেটওয়ার্কগুলো কীভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে তার পরিবর্তনের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত।” সহ-সমন্বয়ক হানা অ্যাডলফি যোগ করেন, এটি সম্পূর্ণ আইনি, সাশ্রয়ী এবং ওষুধবিহীন একটি পদ্ধতি, যা মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির গবেষণায় সহায়ক হতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
গবেষণাটির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন অ্যান্ড সাসেক্স মেডিকেল স্কুলের ড. গাই ফিঞ্চাম মন্তব্য করেছেন যে, এই ফলাফলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ ধরনের পরিবর্তিত অনুভূতি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই গবেষণাটি ছিল ছোট পরিসরে এবং অংশগ্রহণকারীরা সবাই অভিজ্ঞ ছিলেন, তাই সাধারণ মানুষের ওপর এটি কতটা কার্যকরী হবে তা জানতে আরও বড় পরিসরে নিয়ন্ত্রিত গবেষণার প্রয়োজন। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক ডেভিড নাট এই গবেষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সাইকেডেলিক গবেষণার ক্ষেত্রে ব্রেথওয়ার্ক একটি দারুণ ‘নন-ফার্মাকোলজিক্যাল’ (ওষুধবিহীন) সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।
এক নজরে গবেষণা সম্পর্কিত তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| গবেষণা উপস্থাপন | ইসিএনপি (ECNP) কংগ্রেস, মিউনিখ, জার্মানি |
| অংশগ্রহণকারী | ৩০ জন সুস্থ ও অভিজ্ঞ ব্রেথওয়ার্ক অনুশীলনকারী |
| মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হ্রাস | প্রায় ৪৫% (১৬.২৪ থেকে কমে ৯.৮১ মিলি/১০০ গ্রাম/মিনিট) |
| প্রভাবিত মস্তিষ্কের অংশ | ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক (যা আত্ম-বিশ্লেষণ ও চিন্তার সাথে যুক্ত) |
| প্রধান গবেষক | ড. ক্রিশ্চিয়ান স্মিটজ (সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ, জার্মানি) |
| চিকিৎসায় ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা | মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাইকেডেলিক ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার |
