![]()
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জেলি, সয়াবিন তেল, পানি ও চিনি মিশিয়ে গরুর দুধ ছাড়াই হুবহু ‘আসল দুধ’ তৈরির চাঞ্চল্যকর কারখানার সন্ধান মিলেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুন পাড়া গ্রামের আবুল বাশারের বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৭০০ লিটার জেলি ও ৩২০ লিটার নকল দুধসহ বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল জব্দ এবং পরে তা ধ্বংস করা হয়। এ অপরাধে কারখানার মালিক আবুল বাশারকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
- 🧪 জব্দকৃত মালামাল: ২৭০০ লিটার জেলি, ২০০ কেজি সয়াবিন তেল এবং ৩২০ লিটার তৈরি নকল দুধ জব্দ ও ধ্বংস।
- ⚖️ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি: কারখানার মালিক আবুল বাশারকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড)।
- 👤 সহযোগীর সাজা: অপরাধে সহযোগিতার দায়ে কর্মচারী সবুজ হোসেনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
- 🏛️ অভিযান পরিচালনা: উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজের নেতৃত্বে এনএসআই ও পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান।
যেভাবে তৈরি হতো কৃত্রিম নকল দুধ
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুন পাড়া গ্রামের আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে কারখানা গড়ে তুলে ভেজাল ও নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। জেলি, সয়াবিন তেল, পানি ও চিনি নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে ব্লেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে এমন নিখুঁতভাবে এই দুধ তৈরি করা হতো যা দেখে আসল বা নকল তা বোঝার উপায় থাকত না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বিষাক্ত নকল দুধ পান করে এলাকার অনেক শিশু পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছিল। অসাধু এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে তা বিক্রি করে আসছিল এবং একাধিকবার নামেমাত্র অভিযান হলেও এবারই প্রথম তাকে কঠোর আইনি সাজার মুখোমুখি করা হলো।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও প্রশাসনের কঠোর হুশিয়ারি
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) পাবনা কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫২ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান অভিযুক্ত আবুল বাশার ও তার সহযোগী সবুজ হোসেনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুত্ফুল কবির, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শিশুখাদ্যে ভেজাল মিশ্রণকারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে।
ভাঙ্গুড়া নকল দুধ কারখানা অভিযান তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| অভিযানের স্থান | কৈডাঙ্গা নতুন পাড়া গ্রাম, ভাঙ্গুড়া, পাবনা (আবুল বাশারের কারখানা) |
| প্রধান আসামি ও সাজা | আবুল বাশার: ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা |
| সহযোগী ও সাজা | সবুজ হোসেন (কর্মচারী): ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা |
| অভিযানের নেতৃত্ব | সুরাইয়া মমতাজ (ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভাঙ্গুড়া) ও এনএসআই টিম |
