![]()
নিউজ প্রোভাইডার
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগারহাট থেকে মতির বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও উঠে গেছে সড়কের ওপরের স্তর। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন এ পথে অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন করতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অসুস্থ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভ্যানচালক আলী হোসেন বলেন, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। কোথাও কোথাও গর্তে পড়ে ভ্যানের চাকা ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ভ্যান নষ্ট হলে মেরামতের টাকাও জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল ইসলাম বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন বলেন, সড়কটি কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন, খগারহাট থেকে মতির বাজার সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামীতে এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সড়কটি কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করবে। সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি তাঁদের।
