Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

বায়ুদূষণে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি, মস্তিষ্ক বাঁচাবেন যেভাবে

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বায়ুদূষণ স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন চিকিৎসক ও গবেষকরা। সাধারণত দূষিত বাতাসের কারণে সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকির কথা বেশি আলোচনায় আসে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বায়ুদূষণের প্রভাব শুধু শ্বাসতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে থাকা অতিসূক্ষ্ম দূষিত কণা শরীরে প্রবেশ করে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন এসব দূষিত উপাদানের সংস্পর্শে থাকলে মস্তিষ্কে প্রদাহ তৈরি হওয়া এবং স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু গবেষণায় বায়ুদূষণের সঙ্গে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

কিন্তু দূষিত বাতাস কীভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে? আর এই ঝুঁকি কমাতে কী করা যেতে পারে?

নাক দিয়ে কীভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায় দূষিত কণা?

বাতাস থেকে ধুলাবালি ও ক্ষতিকর কণা আটকাতে নাকের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা সব ধরনের দূষিত কণা আটকে রাখতে পারে না।

বিশেষ করে পিএম ২.৫ (PM2.5) নামে পরিচিত অতিসূক্ষ্ম কণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব কণা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছানোর পাশাপাশি রক্তপ্রবাহেও মিশতে পারে। কিছু গবেষণায় নাকের ঘ্রাণসংক্রান্ত স্নায়ুপথ ধরে অতি সূক্ষ্ম দূষিত কণার মস্তিষ্কে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

মস্তিষ্ককে ক্ষতিকর পদার্থ থেকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার বা রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক। দীর্ঘদিন বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকলে শরীরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হতে পারে। এতে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গবেষকদের ধারণা, দূষিত কণার কারণে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে প্রদাহ ও ক্ষতির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে স্মৃতি, মনোযোগ ও অন্যান্য মানসিক কার্যক্রমে।

আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক

বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘদিন পিএম ২.৫ এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মতো বায়ুদূষণকারী উপাদানের সংস্পর্শের সঙ্গে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড-বিটা নামের একটি প্রোটিন অস্বাভাবিকভাবে জমতে দেখা যায়। কিছু গবেষণায় বায়ুদূষণের সংস্পর্শের সঙ্গে মস্তিষ্কে এ ধরনের ক্ষতিকর পরিবর্তনের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে।

তবে বায়ুদূষণের কারণে সরাসরি আলঝেইমার হয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং এটি ডিমেনশিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিন বা অল্প সময় দূষিত বাতাসে শ্বাস নিলেই কারও ডিমেনশিয়া হবে না। দীর্ঘদিন দূষণের সংস্পর্শে থাকা, বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক ঝুঁকির সম্মিলিত প্রভাব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

যাদের ঝুঁকি বেশি

বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। কিছু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

বয়স্ক ব্যক্তিরা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো সমস্যা থাকলে দূষণের প্রভাব আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

শিশু ও গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় বায়ুদূষণের সংস্পর্শে এলে ভ্রূণের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দূষিত বাতাসের প্রভাব মনোযোগ ও জ্ঞানীয় বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির পরিবর্তনেও সতর্কতা

বয়স বাড়ার সঙ্গে ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ ঘ্রাণশক্তি কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘ্রাণশক্তির পরিবর্তন কখনো কখনো স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। একইভাবে শ্রবণশক্তি কমে গেলে বয়স্ক ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দিতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা জ্ঞানীয় স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ঘ্রাণ বা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া মানেই ডিমেনশিয়া নয়। এমন পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বায়ুদূষণ থেকে মস্তিষ্ক সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

বায়ুদূষণ পুরোপুরি এড়ানো কঠিন। তবে কিছু সতর্কতা মেনে চললে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বাতাসের মান যাচাই করুন: বাইরে যাওয়ার আগে এলাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) দেখে নিন। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে দূষণের সময় সকালে খোলা জায়গায় ব্যায়াম না করাই ভালো।

এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহার করুন: বাইরে গেলে ভালো মানের ও মুখে ঠিকভাবে বসে এমন এন-৯৫ বা সমমানের মাস্ক ব্যবহার করুন। সাধারণ কাপড়ের মাস্ক অতিসূক্ষ্ম কণা আটকাতে তুলনামূলক কম কার্যকর।

ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখুন: সম্ভব হলে ঘরে উপযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন। ধূপকাঠি, মশার কয়েল ও ঘরের ভেতরে ধূমপান এড়িয়ে চলুন। বাইরে দূষণ বেশি থাকলে জানালা খোলা রাখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন।

নাকের যত্ন নিন: প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্যালাইন নাসাল স্প্রে বা নাক পরিষ্কারের পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা মস্তিষ্কের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বায়ুদূষণ শুধু ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমাতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগও জরুরি।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।