![]()
মোহাম্মদ করিম, মফস্বল সম্পাদক:
বান্দরবানের লামায় পোলট্রি খামারের মুরগি বিক্রির বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘর থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ ঘটনায় মোর্জিনা আক্তার (২৮) নামের এক নারী স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে লামা বাজারের আরামবাগ হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মোর্জিনা আক্তার। তিনি লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলিঙ্গ বিল এলাকার বাসিন্দা এবং মো. ইকবাল হোসেনের স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে মোর্জিনা জানান, লামা বাজারের ব্যবসায়ী ডন সাহেবের সঙ্গে যৌথভাবে একটি পোলট্রি খামার পরিচালনা করে আসছেন তিনি। ওই খামারের মুরগি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে মো. করিম (৩২) নামের এক ব্যক্তির কাছে মুরগি বিক্রির টাকা বকেয়া ছিল। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি নানা অজুহাতে তা পরিশোধে কালক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন মোর্জিনা।
বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ
মোর্জিনার অভিযোগ, গত ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে লামা পৌরসভার কলিঙ্গ বিল এলাকায় সাইদুলের দোকানের সামনে করিমের কাছে মুরগি বিক্রির বকেয়া টাকা চান তিনি। এ সময় করিম তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাঁর স্বামী প্রতিবাদ করলে তাঁকেও জুতাপেটার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই ব্যক্তি।
বাড়িতে গিয়ে হামলা ও মারধরের অভিযোগ
মোর্জিনা আক্তারের দাবি, ঘটনার প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে মো. করিম, মাইনুদ্দিন, মো. কাদের, কানা মোল্লা, মো. গনি, রাবেয়া প্রকাশ কালী, রূপজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন তাঁদের বসতবাড়ির সামনে জড়ো হন।
এ সময় তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, লাঠি ও গাছের বাটাম ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর স্বামী প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে সরে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁর বড় বোন মোমেনা বেগম (৩৫) ও ছোট বোন রোকসানা আক্তারকে (২৩) এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন মোর্জিনা।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় দুই বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তাঁদের কিল, ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
৩ লাখ টাকা লুট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
মোর্জিনা আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘরে রাখা মুরগি বিক্রির ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং তাঁর বড় বোনের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। সব মিলিয়ে নগদ ৩ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
এ ছাড়া তাঁর দুই বোনের মাথার চুল ও পরনের কাপড় ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। যাওয়ার সময় তাঁদের প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
মোর্জিনার দাবি, ওই রাত আনুমানিক ৩টার দিকেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আবার তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন।
থানায় অভিযোগ দিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার পর আহত দুই বোনকে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মোর্জিনা আক্তার বলেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় গত ১ নভেম্বর লামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রত্যাশিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখতে পাননি বলে দাবি তাঁর।
অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের নিয়মিত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন মোর্জিনা।
এ অবস্থায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
