Touch Bangladesh
ঢাকামঙ্গলবার , ৪ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

মেটার ১৪.৩ বিলিয়ন বাজি: ‘চিফ এআই অফিসার’ আলেকজান্ডার ওয়াং

প্রতিবেদক
Louis Daru
আগস্ট ৪, ২০২৬ ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

প্রযুক্তি | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মেটার ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ: এক ব্যর্থ স্টার্টআপ থেকে ‘চিফ এআই অফিসার’ আলেকজান্ডার ওয়াংয়ের উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক, লুইস দারু | TouchBangladesh
৪ আগস্ট, ২০২৬

ল্পটা শুরু ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের হাত ধরে, যিনি একটি ব্যর্থ স্টার্টআপের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন এক স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ সেই স্বপ্নেই টেক জায়ান্ট মেটা (Meta) বিনিয়োগ করেছে অভাবনীয় ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার। আর সেই স্বপ্নবাজ তরুণ আলেকজান্ডার ওয়াং (Alexandr Wang) এখন মেটার প্রথম ‘চিফ এআই অফিসার’ হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা বিভাগকে।

মেটা ও ওয়াংয়ের মেগা ডিল: মূল তথ্য

স্কেল এআই-এর সাথে মেটার ঐতিহাসিক চুক্তির একনজরে রূপরেখা:

  • 💰 বিনিয়োগের আকার: স্কেল এআই-তে মেটার ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ।
  • 🤝 অংশীদারিত্ব: কোম্পানিটির ৪৯% মালিকানা এখন মার্ক জাকারবার্গের মেটার হাতে।
  • 🚀 নতুন ল্যাব: আলেকজান্ডার ওয়াংয়ের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ (MSL)।

ওপেনহাইমারের শহর থেকে সিলিকন ভ্যালি

ওয়াংয়ের এই যাত্রার শুরু নিউ মেক্সিকোর লস অ্যালামোসে—যে জায়গাটি এখন ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমার কারণে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। তবে তখন এটি ছিল প্রায় জনশূন্য এক প্রত্যন্ত এলাকা। ছোটবেলা থেকেই গণিত আর কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতায় নিজেকে ঝালিয়ে নিতেন ওয়াং। হাই স্কুল শেষ করে এক বছরের বিরতি নিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন সিলিকন ভ্যালির প্রশ্নোত্তর প্ল্যাটফর্ম কোয়ারা-তে (Quora)। এরপর ভর্তি হন এমআইটি-তে (MIT)। কিন্তু সেখানে মাত্র এক বছর পড়ার পরই, ১৯ বছর বয়সে ওয়াই কম্বিনেটর (YC)-এ সুযোগ পান এবং প্রথাগত পড়াশোনা ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে পা বাড়ান।

শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। ওয়াংয়ের প্রথম আইডিয়া ছিল এমন একটি এআই এজেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে চিকিৎসা সেবা পেতে সাহায্য করবে। কিন্তু মাত্র মাস দুয়েকের মধ্যেই তাকে সরাসরি বলে দেওয়া হয়—এই আইডিয়া কোথাও যাচ্ছে না।

ব্যর্থতা থেকে ‘স্কেল এআই’-এর জন্ম

ব্যর্থতা থেকেই জন্ম নেয় নতুন এক ভাবনা। এমআইটিতে থাকাকালীন ওয়াং নিজে কিছু এআই মডেল ট্রেন করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বোঝেন, একটি এআই মডেল ট্রেন করতে তিনটি জিনিস অপরিহার্য—কম্পিউট পাওয়ার, কোড এবং সঠিক ডেটা। সেই সময় কম্পিউট আর কোড পাওয়া সহজ হলেও, উচ্চমানের ডেটা পাওয়ার কোনো কার্যকর উপায় ছিল না। এই শূন্যতাকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান ওয়াং। জন্ম হয় ‘স্কেল এআই’ (Scale AI)-এর।

শুরুতে তারা মূলত সেলফ-ড্রাইভিং কারের জন্য ডেটা সরবরাহ করত। বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীরা এই ব্যবসাকে গুরুত্ব দিতে চাননি। ওয়াং নিজেই বলেছিলেন, “আমাদের রেভিনিউ ভালো থাকলেও ভিসি-রা (ভেনচার ক্যাপিটালিস্ট) সবসময় সন্দিহান থাকতেন এই ব্যবসা কি টেকসই হবে?” কারণ, সেই সময়ের কোনো বিনিয়োগকারী নিজে কখনো এআই মডেল ট্রেন করেননি, তাই তারা ডেটার গুরুত্ব বুঝতেই পারেননি। অথচ আজ সেই একই বিনিয়োগকারীরা ডেটা নিয়ে বড় বড় নিবন্ধ লিখছেন।

একনজরে: আলেকজান্ডার ওয়াংয়ের ক্যারিয়ার টাইমলাইন

সময়কাল / বয়স মাইলফলক
১৮ বছর বয়স সিলিকন ভ্যালির কোয়ারা (Quora)-তে কর্মজীবন শুরু।
১৯ বছর বয়স এমআইটি (MIT) থেকে ড্রপআউট, YC-তে যোগদান এবং ‘স্কেল এআই’ প্রতিষ্ঠা।
জুন ২০২৫ স্কেল এআই-তে মেটার ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও চিফ এআই অফিসার হিসেবে মেটাতে যোগদান।
এপ্রিল ২০২৬ নতুন এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন।
জুলাই ২০২৬ উন্নত সংস্করণ ‘মিউজ স্পার্ক ১.১’ লঞ্চ (অ্যানথ্রোপিকের চেয়ে ৮ গুণ সাশ্রয়ী)।

মেটার সাথে নতুন অধ্যায়: ‘মিউজ স্পার্ক’ বিপ্লব

ওয়াংয়ের মূল দর্শন খুব স্পষ্ট: “এমন কিছুতে বিশ্বাস গড়ে তুলুন যা আর কেউ বিশ্বাস করে না।” তার মতে, পৃথিবীর সফলতম কোম্পানিগুলো এমন সময়ে শুরু হয়েছিল যখন তাদের মূল ধারণা জনপ্রিয় হওয়ার অনেক দেরি ছিল। ২০২৫ সালের জুনে ওয়াংয়ের জীবনে এক বিশাল মোড় আসে। মেটা স্কেল এআই-তে বিনিয়োগের পর ওয়াং ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ (MSL)-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

এর ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তারা লঞ্চ করে তাদের প্রথম মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’। এরপর গত জুলাইয়ে আসে ‘মিউজ স্পার্ক ১.১’ (Muse Spark 1.1), যা কোডিং এবং এজেন্টিক কাজের জন্য তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল। এটি অ্যানথ্রোপিকের ওপাস (Opus) মডেলের তুলনায় প্রায় ৮ গুণ কম দামে ডেভেলপারদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ওয়াং মনে করেন, মেধাবী মানুষের সমাগমই ছিল তাদের এই অভাবনীয় সাফল্যের সবচেয়ে বড় বাজি।

সত্যি বলি: আলেকজান্ডার ওয়াংয়ের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, প্রযুক্তির জগতে সফল হতে হলে ভবিষ্যতের প্রয়োজনটা আগেভাগে বুঝতে হয়। যখন সবাই এআই-এর চাকচিক্য নিয়ে ব্যস্ত ছিল, ওয়াং তখন কাজ করছিলেন এর মূল ভিত্তি অর্থাৎ ‘ডেটা’ নিয়ে। আজ মেটার এআই বিপ্লবের নেপথ্যে থাকা এই ২৯ বছর বয়সী তরুণ বিশ্বের প্রতিটি উদ্যোক্তার জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

আপনার আইডিয়া কি আশেপাশের মানুষ এখনো বোঝে না? কমেন্টে জানান 👇

আর এমন Exclusive Tech, AI, and Social Media News পেতে ফলো করুন এবং পোস্টটি শেয়ার ও সেভ করুন!

#AlexandrWang #Meta #ArtificialIntelligence #Entrepreneurship #ScaleAI #TouchBangladesh

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।