Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ২ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ব্রেকআপের পর প্রাক্তনের সাথে বন্ধুত্ব রাখা কি ঠিক? যা বলছে গবেষণা

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ২, ২০২৬ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ব্রেকআপ বা সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটার পরও অনেকেই প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখেন। বিষয়টি কি পুরোপুরি মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর, নাকি অতীত থেকে বেরিয়ে আসার পথে বড় বাধা—এ নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং মনোবিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা তর্ক-বিতর্ক রয়েছে।

গবেষণা বলছে, ব্রেকআপের পর প্রাক্তনের সঙ্গে কেন যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিচ্ছেদের পর কতটা সময় কেটেছে এবং দুই ব্যক্তির মানসিক সংযুক্তির ধরন কেমন—তার ওপরই নির্ভর করে এই বন্ধুত্বের পরিণতি।

বিচ্ছেদের পর সাবেককে ভুলে থাকা কেন কঠিন?

প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষের মস্তিষ্কে শুধু দুঃখই তৈরি হয় না, সেই সাথে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ২০০৪ সালে নৃতত্ত্ববিদ ও গবেষক হেলেন ফিশারের নেতৃত্বে পরিচালিত মস্তিষ্কের কার্যক্রমবিষয়ক এক গবেষণায় দেখা যায়, বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনের ছবি দেখলে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল এরিয়া (VTA) এবং কডেট নিউক্লিয়াস অঞ্চল দুটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কের এই অঞ্চলগুলো মূলত পুরস্কার, আনন্দ এবং প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত।

ফলে বিচ্ছেদের পরপরই প্রাক্তনের একটি ফোনকল, বার্তা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার এই যোগাযোগ পুরোনো আবেগকে বাঁচিয়ে রাখে, যা বিচ্ছেদের কষ্ট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে।

সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার চার কারণ

২০১৭ সালে গবেষক মোগিলস্কি ও ওয়েলিংয়ের এক গবেষণায় ব্রেকআপের পর বন্ধুত্ব বজায় রাখার পেছনে চারটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়:

  • নিরাপত্তাবোধ: দীর্ঘদিনের পরিচিত ও বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে প্রাক্তনকে জীবনে রেখে দেওয়ার ইচ্ছা কাজ করে।

  • বাস্তব সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রয়োজন: সন্তান লালন-পালন, যৌথ ব্যবসা, একই কর্মক্ষেত্র কিংবা বন্ধু মহলের কারণে বাধ্য হয়ে যোগাযোগ রাখতে হয়।

  • সামাজিক সৌজন্য: পুরোনো সম্পর্কটিকে তিক্ততার মধ্য দিয়ে শেষ না করে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার তাগিদ।

  • অমীমাংসিত প্রেমের আশা: অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কটি আবার জোড়া লাগতে পারে—এমন সুপ্ত আশা থেকে অনেকেই বন্ধুত্ব বজায় রাখেন।

এই বন্ধুত্ব কখন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগের পর যদি বারবার বিষাদ গ্রাস করে, ঈর্ষা কাজ করে, কিংবা নতুন কোনো সম্পর্কে জড়াতে বাধা তৈরি হয়—তবে সেই যোগাযোগ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

তাছাড়া প্রাক্তনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করার প্রবণতা তৈরি হওয়া বা মানসিক সমর্থনের জন্য সার্বক্ষণিক তার ওপর নির্ভরশীল থাকা স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, এই বন্ধুত্ব মূলত অতীত আঁকড়ে থাকার একটি উপায় মাত্র।

সময় এবং দূরত্বের ভূমিকা

বিচ্ছেদের ঠিক পরপরই বন্ধুত্ব করার চেষ্টা এবং দীর্ঘ সময় পর বন্ধুত্ব করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ মানুষেরই পুরোনো সম্পর্কের আবেগ বা তীব্রতা কমে আসে। বিচ্ছেদের শুরুতে যে যোগাযোগ অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হয়, এক বা দুই বছর পর সেটিই হয়তো স্বাভাবিক ও সহজ বন্ধুত্বে রূপ নিতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বিচ্ছেদের পর শুরুতেই কিছুদিন পুরোপুরি দূরত্ব বজায় রাখা ভালো। এই সময়ে ফোন করা, বার্তা পাঠানো বা সামাজিক মাধ্যমে নজর রাখা থেকে বিরত থাকলে মানসিক নিরাময় দ্রুত হয়। তবে সন্তান বা কর্মক্ষেত্রের কারণে যোগাযোগ জরুরি হলে তা কেবল প্রয়োজনীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

সর্বোপরি, সাবেকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বা না রাখার বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির নিজস্ব মানসিক অবস্থা ও উদ্দেশ্যে উপর। এই বন্ধুত্ব জীবনের গতি বাড়াতে সাহায্য করছে, নাকি অতীতে আটকে রাখছে—সততার সঙ্গে নিজেকে এই প্রশ্নটি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।