Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩০ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ভেপিং সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর, শ্বাসকষ্ট ও ফিটনেস নষ্ট করে

প্রতিবেদক
Louis Daru
জুলাই ৩০, ২০২৬ ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল | চিকিৎসা গবেষণা

ধূমপানের মতোই শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতা তৈরি করে ভেপিং: নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | TouchBangladesh
৩০ জুলাই, ২০২৬

Vape-effect

Vape-effect

ভেপিং বা ই-সিগারেটকে দীর্ঘদিন ধরে ধূমপানের একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, এমনকি যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএস (NHS)-এরও এতে সমর্থন ছিল। কিন্তু একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। নিয়মিত ভেপিং করা ফিটনেস স্তরের জন্য সাধারণ সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর হতে পারে। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব সুস্থ তরুণ ভেপ করেন, ব্যায়ামের সময় তাদের ঠিক ততটাই শ্বাসকষ্ট হয়, যতটা একজন ধূমপায়ীর হয়ে থাকে।

গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণ

১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৭৫ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এর প্রধান ফলাফলগুলো হলো:

  • 🫀 রক্তনালীর ক্ষতি: ধূমপায়ীদের মতোই ভেপারদের রক্তনালীতে প্রায় একই মাত্রার ক্ষতি লক্ষ্য করা গেছে।
  • 📉 ফিটনেস কমে যাওয়া: ভেপারদের সামগ্রিক ফিটনেস লেভেল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
  • ⚠️ জাতীয় স্বাস্থ্য ঝুঁকি: ব্রিটেনে প্রায় সাড়ে ৫৫ লাখ মানুষ ভেপিং করে, যা পুরো জাতির জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

ক্যান্সার ঝুঁকি ও সিগারেটের সাথে তুলনা

গত মাসে প্রকাশিত দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গবেষণার তথ্যের পরপরই এই নতুন ডেটা সামনে এলো। কোরীয় ওই গবেষণায় দেখা যায়, প্রচলিত সিগারেটের বদলে ভেপ ধরলে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি খুব একটা কমে না। বরং, ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া প্রাক্তন ধূমপায়ীদের তুলনায়, যারা বিকল্প হিসেবে ভেপিং শুরু করেছিলেন তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং মারা যাওয়ার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও, গত বছর ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো ভেপারদের সংখ্যা সিগারেট ধূমপায়ীদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

সিগারেট এবং ভেপ—উভয়ই শরীরে নিকোটিন সরবরাহ করলেও এদের কাজ করার প্রক্রিয়া ভিন্ন। সিগারেট তামাক পোড়ায়, যা টার এবং কার্বন মনোক্সাইডের মতো হাজার হাজার ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক তৈরি করে। অন্যদিকে, ভেপ একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের মাধ্যমে নিকোটিনযুক্ত তরলকে গরম করে অ্যারোসলে পরিণত করে, যা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এতে তুলনামূলক কম রাসায়নিক থাকে বলে ধারণা করা হয়। এনএইচএস-এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভেপিং ‘ধূমপানের চেয়ে কম ক্ষতিকর’, তবে এটি ‘সম্পূর্ণ ক্ষতিকারক নয় তা বলা যায় না এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হতে পারে তা এখনও আমাদের অজানা’।

পরীক্ষার পদ্ধতি ও উদ্বেগজনক ফলাফল

‘ইআরজে ওপেন রিসার্চ’ (ERJ Open Research) জার্নালে প্রকাশিত এই নতুন গবেষণায় দেখা হয়েছে ভেপিং বা ধূমপান ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৭৫ জন সুস্থ ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে। অংশগ্রহণকারীদের কারোরই আগে থেকে হার্ট বা ফুসফুসের রোগের ইতিহাস ছিল না এবং পরীক্ষার আগে সবার ফুসফুসের কার্যকারিতা স্বাভাবিক ছিল। তাদের ২৫ জন করে তিনটি সমান দলে ভাগ করা হয়: ২৫ জন ভেপার, ২৫ জন সিগারেট ধূমপায়ী এবং ২৫ জন যারা কখনোই ধূমপান বা ভেপ করেননি।

ভেপার এবং ধূমপায়ীরা প্রত্যেকেই কমপক্ষে ১৮ মাস ধরে তাদের বেছে নেওয়া নিকোটিন পণ্য ব্যবহার করছিলেন। তিন গ্রুপের শারীরিক কার্যকলাপ এবং অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রাসহ জীবনযাপন পদ্ধতি প্রায় একই রকম ছিল। নির্দিষ্ট সময় পর অংশগ্রহণকারীরা একটি এক্সারসাইজ বাইকে সাইক্লিং ফিটনেস টেস্ট সম্পন্ন করেন, যা প্রতি দুই মিনিটে ধীরে ধীরে আরও কঠিন হচ্ছিল যতক্ষণ না তারা তাদের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছান। গবেষকরা পুরো সময় জুড়ে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্টের কার্যকারিতা, অক্সিজেনের ব্যবহার, ব্লাড ল্যাকটেট (ব্যায়ামের সময় পেশিতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে যে রাসায়নিক জমা হয়) এবং শ্বাসকষ্টের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা কখনও ধূমপান বা ভেপ করেননি তাদের তুলনায় তরুণ ভেপার এবং ধূমপায়ীরা প্রায় প্রতিটি পরীক্ষাতেই একইভাবে খারাপ পারফর্ম করেছেন। রক্তনালীর কার্যকারিতা পরিমাপে অধূমপায়ীদের তুলনায় ভেপাররা ৪২ শতাংশ এবং ধূমপায়ীরা ৪৪ শতাংশ কম স্কোর করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে ব্যায়ামের সময় শরীরে রক্তপ্রবাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

পরীক্ষায় ভেপার ও ধূমপায়ীদের পারফরম্যান্স তুলনা

পরিমাপের বিষয় ভেপার (Vapers) সিগারেট ধূমপায়ী (Smokers)
রক্তনালীর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ৪২% কম ৪৪% কম
ফিটনেস লেভেল হ্রাস (অক্সিজেন ব্যবহার সাপেক্ষে) প্রায় ১৫% কম প্রায় ১৫% কম
ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের তীব্রতা দ্রুত ক্লান্ত হন ও শ্বাসকষ্ট হয় দ্রুত ক্লান্ত হন ও শ্বাসকষ্ট হয়

বিশেষজ্ঞের মত ও সরকারি পদক্ষেপ

ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কার্ডিওরেসপিরেটরি গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ডা. আজমি ফয়সাল বলেন: “আমাদের গবেষণা নির্দেশ করে যে, যারা কখনও ধূমপান বা ভেপ করেননি তাদের তুলনায় ভেপিংয়ের কারণে রক্তনালীতে ক্ষতিকারক পরিবর্তন, ব্যায়ামের সময় ফুসফুসের কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং ফিটনেস প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।”

ই-সিগারেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত জুনে দেশব্যাপী ডিসপোজেবল (একবার ব্যবহারযোগ্য) ভেপ নিষিদ্ধ করা হয়। এই বছরের শুরুতে, সরকার ‘টোব্যাকো অ্যান্ড ভেপস অ্যাক্ট’ (Tobacco and Vapes Act) চালু করেছে, যা ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ভেপিং নিষিদ্ধ করে। ‘অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথ’ (Action on Smoking and Health) চ্যারিটির পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, ব্রিটেনে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন ভেপিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েছে। গবেষকরা এখন আশা করছেন, তারা এমআরআই (MRI) স্ক্যানের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত গবেষণা পরিচালনা করবেন, যাতে ভেপিং ঠিক কীভাবে হার্ট, ফুসফুস এবং পেশিকে প্রভাবিত করে এবং এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে ফিটনেসকে প্রভাবিত করে তা নিখুঁতভাবে জানা যায়।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।