![]()
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় না থাকলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। হরমোনের এই অস্বাভাবিক ওঠানামার কারণে হঠাৎ ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন এবং দ্রুত চুল পড়ার মতো উপসর্গ তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশেষ করে, খাদ্যতালিকায় যদি নির্দিষ্ট কিছু মাছ অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তবে থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।
থাইরয়েডের জন্য কেন মাছ গুরুত্বপূর্ণ?
থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে টি-৩ (T3) এবং টি-৪ (T4) হরমোন তৈরিতে দুটি খনিজ উপাদান সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে—আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। মানবশরীরে থাইরয়েড গ্রন্থিতেই সবচেয়ে বেশি সেলেনিয়াম জমা থাকে। এছাড়া থাইরয়েডের কারণে শরীরে সৃষ্ট প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, নিয়মিত সঠিক নিয়মে ইলিশ এবং বেশ কিছু দেশি মাছ খেলে শরীর প্রয়োজনীয় এই পুষ্টি উপাদানগুলো সহজেই পেতে পারে।
কোন মাছ কতটা কার্যকরী?
-
ইলিশ মাছ: ইলিশ মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেলেনিয়াম থাকে। ইলিশের সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের ঝুঁকি কমায়।
-
ভেটকি মাছ: উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ ভেটকি মাছ থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে বিদ্যমান জিংক হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
-
পাবদা মাছ: হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীদের বিপাকহার ধীর হয়ে যাওয়ার দরুন হজমে সমস্যা দেখা দেয়। পাবদা মাছ হালকা এবং সহজপাচ্য। প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন ও সেলেনিয়াম থাকায় এটি থাইরয়েডের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক।
-
বাটা মাছ: মিষ্টিপানির পাশাপাশি নোনাপানির কাছাকাছি অঞ্চলে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে বাটা মাছে প্রাকৃতিক আয়োডিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া বা হরমোন উৎপাদন কমে যাওয়া রোধে এটি কাজ করে।
-
ট্যাংরা মাছ: পর্যাপ্ত আয়োডিন ও সেলেনিয়ামের পাশাপাশি ট্যাংরা মাছে রয়েছে ভিটামিন-ডি। এটি থাইরয়েডজনিত অতিরিক্ত ক্লান্তি ও হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ওষুধ সেবনের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় খনিজসমৃদ্ধ এসব মাছ রাখা হলে থাইরয়েডের পাশাপাশি শরীরের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সহজ হয়।
