![]()
আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯৯ রানের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। শুরুতে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়লেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছিল দলটি। ম্যাচ শেষে এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব দলের খেলোয়াড়দের একতা, সংস্কৃতি এবং লড়াকু মানসিকতাকে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। বিশাল ব্যবধানে জয় পেলেও প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে সম্মান জানিয়ে রাজা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো জয়ই সহজে আসে না।
- 🏏 ম্যাচের ফলাফল: বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা করেছে জিম্বাবুয়ে।
- 💪 দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন: ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ব্রেন্ডন টেলর (৮১) ও ক্রেগ আরভিনের (৯৩) জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে।
- 🗣️ রাজার বক্তব্য: “এটি কোনো সহজ জয় ছিল না; আমরা পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি এবং মানিয়ে নিয়েছি বলেই জিতেছি।”
- 🤝 টিম কালচার: দলের খেলোয়াড়দের একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং একতাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন রাজা।
শুরুর বিপর্যয় সামলে অসাধারণ লড়াই
ম্যাচের প্রথম দশ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে প্রচণ্ড চাপে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা বলেন, “ওই সময়টা বেশ কঠিন ছিল। তবে ক্রেগ আরভিন এবং ব্রেন্ডন টেলর যেভাবে ইনিংসটি ধরে রেখেছিল, তার পুরো কৃতিত্ব তাদের। তারা সাহসিকতার সাথে লড়াই করে ১৫০ রানের একটি পার্টনারশিপ গড়ে আমাদের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।” বাংলাদেশের রান তাড়ার সময় তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত শুরুর পর বোলার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা এবং নিউম্যান নিয়ামহুরির দারুণ প্রত্যাবর্তনেরও প্রশংসা করেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।
বাংলাদেশকে সম্মান: ‘কোনো জয়ই সহজ নয়’
৯৯ রানের বড় জয় পেলেও ম্যাচটিকে ‘সহজ জয়’ মানতে নারাজ রাজা। তিনি বলেন, “১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশ হয়তো ৯৬/২ বা ৯১/৩ এমন অবস্থায় ছিল এবং ম্যাচে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো জয়ই সহজে আসে না। একসময় বাংলাদেশ ৮টি ম্যাচের মধ্যে আমাদের ৬টিতেই হারাতো। আমরা শেষ ৪টি ওয়ানডের ৩টিতে জিতেছি তার মানে এই নয় যে ম্যাচগুলো সহজ ছিল। আমি বাংলাদেশকে ছোট করে এটিকে সহজ জয় বলতে চাই না। আমরা ভালোভাবে লড়াই করেছি এবং কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়েছি বলেই জিতেছি।”
আবুধাবির স্পোর্টিং উইকেট ও জিম্বাবুয়ের টিম কালচার
আবুধাবির পিচ নিয়ে রাজা জানান যে, এই উইকেটে পেসার এবং ব্যাটার উভয়ের জন্যই কিছু না কিছু থাকে। উইকেট শুরুতে মুভমেন্ট দিলেও পরে স্পিন ধরে এবং একপর্যায়ে ব্যাটিংয়ের জন্য ফ্ল্যাট হয়ে যায়। যারা ধৈর্য ধরে কঠিন সময়টা পার করতে পারে, তারাই এখানে সফল হয়। দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণ হিসেবে রাজা তাদের ‘টিম কালচার’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের শক্তির মূল জায়গা হলো দলের একতা। আমরা প্রত্যেকেই সবার সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি। বল হাতে বা ব্যাট হাতে যে-ই থাকুক না কেন, যেকোনো পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।”
এক নজরে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | ওডিআই (ODI) ত্রিদেশীয় সিরিজ ২০২৬, সংযুক্ত আরব আমিরাত |
| ম্যাচের ফলাফল | জিম্বাবুয়ে ৯৯ রানে জয়ী |
| জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ | ২৭১/৮ (ক্রেগ আরভিন ৯৩, ব্রেন্ডন টেলর ৮১) |
| বাংলাদেশের সংগ্রহ | ১৭২ রানে অলআউট (তানজিদ হাসান ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন) |
| ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট | আরভিন ও টেলরের ১৫০ রানের জুটি |
| প্রশংসিত বোলার | ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামহুরি |
