Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

পৃথিবীতে প্রাণের রাসায়নিক উপাদান সম্ভবত ধূমকেতু থেকে আসেনি

প্রতিবেদক
Louis Daru
অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | মহাকাশ

পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চারকারী রাসায়নিক উপাদানগুলো সম্ভবত ধূমকেতু থেকে আসেনি। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা ছিল যে, সৃষ্টির আদিলগ্নে পৃথিবীর প্রথম ১০০ কোটি বছরে ধূমকেতুর আঘাতেই প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদানগুলো এখানে এসেছিল। কিন্তু ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ (Scientific Reports) জার্নালে ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এই ধারণাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। নতুন সিমুলেশন মডেল বলছে, বেশিরভাগ ধূমকেতুই এত প্রবল গতিতে এবং এত খাড়া কোণে পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল যে, সেই ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে প্রাণের উদ্ভবকারী ‘প্রিবায়োটিক’ অণুগুলোর টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল।

গবেষণার মূল সারসংক্ষেপ

  • ☄️ প্রচলিত ধারণায় ধাক্কা: পৃথিবীতে প্রাণের বীজ ধূমকেতু থেকে আসার পুরনো তত্ত্বকে নাকচ করছে নতুন এই গবেষণা।
  • 💥 প্রচণ্ড গতি ও সংঘর্ষ: ধূমকেতুর প্রবল গতি এবং আঘাতের কোণের কারণে প্রয়োজনীয় জৈব অণুগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।
  • 🧪 হাইড্রোজেন সায়ানাইড: অত্যন্ত শক্তিশালী অণু হাইড্রোজেন সায়ানাইডও এই ধরনের সংঘর্ষে টিকে থাকতে প্রায় অক্ষম।
  • 🪐 মঙ্গলে সম্ভাবনা বেশি: পৃথিবীর তুলনায় পাতলা বায়ুমণ্ডল ও ছোট আকার হওয়ায় মঙ্গলে এই অণুগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি ছিল।

হাইড্রোজেন সায়ানাইড ও সিমুলেশনের ফলাফল

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের (Met Office) গ্রহ বিজ্ঞানী রিচার্ড আনস্লো এবং তার দল কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করে একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তারা মূলত ‘হাইড্রোজেন সায়ানাইড’ নামের একটি রাসায়নিক যৌগের ওপর ধূমকেতুর আঘাতের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। কার্বন ও নাইট্রোজেনের শক্তিশালী বন্ধনে যুক্ত এই অণুটি অন্যান্য কার্বন-ভিত্তিক রাসায়নিকের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। কিন্তু সিমুলেশনে দেখা গেছে, ধূমকেতু থেকে পৃথিবীতে এই অণুটির অক্ষত অবস্থায় পৌঁছানো অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। এক বিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে হয়তো মাত্র একটি সংঘর্ষেই পর্যাপ্ত পরিমাণ হাইড্রোজেন সায়ানাইড পৃথিবীতে টিকে থাকতে পেরেছিল।

টিকে থাকার কঠিন শর্ত ও মঙ্গলের সম্ভাবনা

ধূমকেতুর আঘাতে কোনো রাসায়নিক উপাদানকে টিকে থাকতে হলে বেশ কিছু কঠিন শর্ত পূরণ করতে হতো। ধূমকেতুটিকে ১০০ মিটারের চেয়ে বড় হতে হবে, এর গতি ধীর হতে হবে এবং তা একটি তীর্যক কোণে পৃথিবীতে আঘাত হানতে হবে। এর পাশাপাশি, বিক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য সেটিকে মহাসাগরের বদলে সরাসরি স্থলে আছড়ে পড়তে হতো, কারণ পানিতে পড়লে রাসায়নিকগুলো দ্রুত পাতলা হয়ে যেত। মজার ব্যাপার হলো, সিমুলেশন থেকে দেখা গেছে পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গল গ্রহে কার্বন-ভিত্তিক অণুগুলো পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি ছিল। কারণ মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পাতলা এবং সেখানে ধূমকেতুর আঘাতের গতিও অনেক কম ছিল।

ধূমকেতু না হলে তবে কোথা থেকে এলো প্রাণ?

যদি পৃথিবীর কার্বন-ভিত্তিক রাসায়নিকগুলো ধূমকেতু থেকে না এসে থাকে, তবে এর বিকল্প উৎস কী হতে পারে? কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গ্রহ ভূতাত্ত্বিক গর্ডন ওসিনস্কির মতে, কার্বন-সমৃদ্ধ গ্রহাণু ‘কার্বোনেশাস কনড্রাইটস’ (carbonaceous chondrites) থেকে এই উপাদানগুলো আসতে পারে। এছাড়া পৃথিবীর নিজস্ব আগ্নেয়গিরি এবং সমুদ্রের তলদেশের হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট বা উষ্ণ প্রস্রবণগুলোও প্রাণের প্রাথমিক রাসায়নিক উপাদান তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। এই নতুন গবেষণা বিজ্ঞানীদের প্রাণের উৎপত্তির আসল রহস্য সন্ধানে বিকল্প পথগুলো নিয়ে ভাবতে বাধ্য করবে।

এক নজরে নতুন গবেষণার তথ্য

বিষয় বিস্তারিত তথ্য
গবেষণার বিষয় পৃথিবীতে প্রাণের রাসায়নিক উপাদানের উৎস হিসেবে ধূমকেতুর ভূমিকা
প্রকাশনার তারিখ ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
জার্নালের নাম সায়েন্টিফিক রিপোর্টস (Scientific Reports)
মূল গবেষক রিচার্ড আনস্লো (যুক্তরাজ্যের মেট অফিস)
পরীক্ষিত রাসায়নিক অণু হাইড্রোজেন সায়ানাইড
বিকল্প সম্ভাব্য উৎস কার্বন-সমৃদ্ধ গ্রহাণু, আগ্নেয়গিরি ও হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।