![]()
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ডাকা ধর্মঘট আগামী সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ধর্মঘটের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, এমনকি অনেককে সিএনজি বা কাভার্ড ভ্যানে করে লাশ বাড়ি নিয়ে যেতে বাধ্য হতে দেখা যায়।
- ⏳ ধর্মঘট স্থগিত: আলোচনা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা।
- 🛑 মূল দাবি: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
- 🚨 রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি: অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে সিএনজি ও কাভার্ড ভ্যানে লাশ পরিবহনের হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
- 🏥 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থান: সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিধান নেই জানিয়ে বাইরে অবস্থানের নির্দেশ পরিচালকের।
রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি এবং ৯৯৯ থেকেও সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ
নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বুধবার সকাল থেকে হাসপাতালের পুরোনো ও নতুন ভবন এবং বহির্বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় অসহায় স্বজনদের। অনেক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর কিংবা অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এমনকি কাভার্ড ভ্যানে করেও স্বজনের লাশ নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির যুক্তি ও হাসপাতালের কঠোর অবস্থান
বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর জানান, ঢামেকে চিকিৎসাধীন প্রায় চার হাজার রোগীর সেবায় তাদের ১২০ থেকে ১৩০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত থাকে। কিন্তু নির্দিষ্ট পার্কিং না থাকায় রাস্তায় গাড়ি রাখলে পুলিশ মামলা দেয় এবং ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মো. ফরহাদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার কোনো বিধান নেই। তবে তাদের ব্যবসা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, তাদের হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করতে হবে। বিষয়টি তদারকির জন্য শাহবাগ থানার ওসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধর্মঘট স্থগিত ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা
সার ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ও আলোচনার ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় সাত দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত করার ঘোষণা আসে। এর ফলে ঢামেক চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ সাময়িকভাবে লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট পার্কিং সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান আসে কিনা, তা নিয়ে এখনো উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ঢামেক অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| আন্দোলনকারী পক্ষ | বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতি |
| ধর্মঘটের মূল কারণ | ঢামেক চত্বরে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা ও পুলিশি হয়রানি |
| স্থগিতের ঘোষণা | বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় ৭ দিনের জন্য স্থগিত |
| হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য | সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিধান নেই |
