Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১০%, জ্বালানিতে ৩২% বৃদ্ধির শঙ্কা

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক সংঘাত, ইরান যুদ্ধ এবং এল নিনোর প্রভাবে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে এ দাম আরও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। শস্য সরবরাহে বিঘ্ন, জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য এবং প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, পণ্যের বাজার একই সময়ে একাধিক বড় ধরনের অভিঘাতের মুখে পড়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বাণিজ্যব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ঝুঁকিতে পড়ছে।

এল নিনো বাড়াতে পারে কৃষির ঝুঁকি

এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে কৃষি উৎপাদনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর কারণে কোথাও বন্যা, কোথাও খরা এবং কোথাও অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ৩২ শতাংশ

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ইরান ও ইউক্রেনের সংঘাত আরও তীব্র না হলে ২০২৭ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংঘাতের বিস্তারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে।

তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, এল নিনোর প্রভাব তীব্র হলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে হামলা বাড়লে কিংবা ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকি একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের দাম মূল পূর্বাভাসের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের মূল্যস্তরকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তেলের সরবরাহ কমতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাদ দিলে চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হতে পারে তেলের সরবরাহে সবচেয়ে বড় পতন।

তবে একই সময়ে বিশ্বে তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাসও দিয়েছে সংস্থাটি। চাহিদা কমে যাওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, কোভিড-১৯ মহামারি ও ১৯৮০ সালের তেলসংকটের পর তেলের চাহিদা হ্রাসের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে তৃতীয় বৃহত্তম পতন।

দরিদ্র দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ৮৭০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ঋণের চাপে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, খাদ্য, জ্বালানি ও সামগ্রিক পণ্যমূল্য নিয়ে সংস্থাটির বর্তমান পূর্বাভাস গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি একসঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা দরিদ্র ও আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়লে এসব দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।