![]()
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। তবে কর্মসূচিটি কংগ্রেস ও দলটির নেতা রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে জোর প্রচার। দলটির প্রচার কার্যক্রমের ব্যাপকতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে। এমনকি ২০২২ সালের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র সময়ও কংগ্রেসের প্রচার এতটা জোরালো ছিল না বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এক ভিডিওবার্তায় দেশবাসীর প্রতি সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দেশ ও সংবিধান রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর ভাষ্য, এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক জোটের কর্মসূচি নয়; বরং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন।
বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে শনিবারই দিল্লিতে পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি বিরোধীদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রামলীলা ময়দানকে এবারের সমাবেশের জন্য বেছে নিয়েছে কংগ্রেস। দলটির লক্ষ্য, সেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানো। দিল্লির ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানেই কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতদিন নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে সরব ছিল কংগ্রেস। এবার সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আদালতের বাইরেও সরাসরি রাজপথে আন্দোলনে নামছে দলটি। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ কতটা জনসমর্থন পায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে রাহুল গান্ধী কতটা সফল হন, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে এই কর্মসূচি থেকে।
