Touch Bangladesh
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

হাতিয়ায় ১৫ বছর ধরে বন্ধ ময়নাতদন্ত, দুর্ভোগে দ্বীপবাসী

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, নৌকাডুবি, হত্যা কিংবা অন্যান্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ নিয়ে যেতে হয় প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের নোয়াখালী সদরে। এতে প্রিয়জন হারানোর শোকের পাশাপাশি স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগ।

বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়া কিংবা নদী উত্তাল থাকলে মরদেহ নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। যাতায়াতের খরচ, সময়ক্ষেপণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাতিয়ায় বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি মরদেহ পাঠাতে হয় নোয়াখালী সদরের মাইজদী জেনারেল হাসপাতালে। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। ফলে আবহাওয়া খারাপ থাকলে মরদেহ পরিবহনে তৈরি হয় বাড়তি জটিলতা।

এ ছাড়া হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও ময়নাতদন্তের জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজনের লাশ নিয়ে নোয়াখালী যেতে হয়। সেখানে লাশ কাটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রহর গুনতে হয়। এগুলোতে অনেক সমস্যা হয়।’

কক্ষ থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই ময়নাতদন্তের জন্য নির্ধারিত একটি কক্ষ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষ করে ডোম না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাতিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সেখানে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এ জন্য শুধু অবকাঠামো থাকলেই হবে না, প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সরঞ্জামও নিশ্চিত করতে হবে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, ‘এখানে বেশিরভাগই জেলে পরিবার থাকে। বিশেষ করে চর এলাকায়। লাশঘরটি যদি পুনরায় চালু হয়, তাহলে এখানে একজন ডোম ও একজন ফরেনসিক ডাক্তার দরকার। তাহলে হাতিয়াবাসী অনেক উপকৃত হবে।’

তিনি জানান, হাতিয়ায় ময়নাতদন্ত কার্যক্রম চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

দুর্ভোগে পুলিশও

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, উপজেলায় কোনো অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠাতে হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে মরদেহ পরিবহন নিয়ে পুলিশ ও স্বজনদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তিনি আরও বলেন, হাতিয়া থেকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালের দূরত্ব বেশি হওয়ায় মরদেহ পরিবহনে খরচও অনেক বেশি হয়। ভেসে আসা কিংবা বেওয়ারিশ মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যয়ও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে বহন করতে হয়।

ওসি কবির হোসেনের মতে, হাতিয়া থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছাকাছি এলাকায় হিমাগার বা মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং স্থানীয়ভাবে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম চালু করা গেলে পুলিশ ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

দ্রুত ব্যবস্থা চান দ্বীপবাসী

হাতিয়ার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, দ্বীপাঞ্চলে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা থাকা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাতিয়াতেই এ সেবা চালু হলে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার দুর্ভোগ কমবে এবং পুলিশের কাজেও গতি আসবে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।