![]()
কয়েক কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। একই সঙ্গে এমন অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন পাল্টা অভিযোগও করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মার্কিন অভিযোগকে তিনি ‘গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তার দাবি, উত্তর কোরিয়ার সমর্থনপুষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠী ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ তুলে দেশটিকে ‘সাইবার অপরাধী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।
কিম ইয়ো জং বলেন, ওয়াশিংটনের এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সাইবার হামলার ঘটনায় নিয়মিত উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সময় গত বছর ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইবিটে সংঘটিত চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
উত্তর কোরিয়া বরাবরই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো দেশটির অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্য বিভিন্ন সাইবার হামলার মাধ্যমে ডিজিটাল সম্পদ চুরি করে থাকে।
কিম ইয়ো জং আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুরি হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাও লাভবান হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ক্রিপ্টোকারেন্সি রিজার্ভ গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পিয়ংইয়ং। ওয়াশিংটনের বৈরী মনোভাব অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে উত্তর কোরিয়া।
তবে কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
